ঈশ্বরগঞ্জে নিখোঁজের একদিন পর গর্ত থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে নিখোঁজের একদিন পর ঘরের পেছনের পানিভর্তি একটি গর্ত থেকে তিন বছর বয়সী শিশু ইমরান হাসানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মাইকিং করে রাতভর খোঁজাখুঁজির পরও শিশুটির সন্ধান না মেলায় পরিবার ও স্বজনরা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ছিলেন। পরদিন সকালে বাড়ির পেছনের পানিভর্তি গর্তে শিশুটির মরদেহ ভেসে উঠলে শোকের মাতম নেমে আসে পরিবার ও পুরো এলাকায়।
শনিবার (১১ জুলাই) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের হাশের আলগী গ্রামের নিজ বাড়ির পেছনের পানিভর্তি একটি গর্ত থেকে ইমরানের মরদেহ উদ্ধার করেন স্বজনরা। নিহত ইমরান হাসান ওই গ্রামের মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও শিরিন আক্তার দম্পতির একমাত্র ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে বাড়ির আঙিনায় খেলাধুলা করার সময় হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায় ইমরান। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে আশপাশের বাড়ি, আত্মীয়-জনের বাসা ও সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন।
কিন্তু কোথাও তার সন্ধান না পেয়ে সন্ধ্যার পর স্থানীয় মসজিদের মাইকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মাইকিং করা হয়। এলাকাবাসীও শিশুটিকে খুঁজে বের করতে রাত পর্যন্ত ব্যাপক অনুসন্ধান চালান। তবুও তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পরিবারের সদস্যরা বাড়ির পেছনের পানিভর্তি একটি গর্তে ইমরানের মরদেহ ভাসতে দেখতে পান। পরে স্বজনরা মরদেহটি উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের গ্রামের শত শত মানুষ শিশুটিকে একনজর দেখতে ভিড় করেন। এমন মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।
পরিবারের স্বজনরা জানান, ইমরান ছিল সবার আদরের। মুহূর্তের অসাবধানতায় এমন দুর্ঘটনা ঘটবে, তা তারা কল্পনাও করতে পারেননি। শিশুটির অকাল মৃত্যুতে পরিবারটি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে ইমরানকে দাফন করা হয়।
এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম বলেন, শিশু পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার বিষয়টি আমাদের কেউ অবগত করেনি।
