মূল লেখায় যান
রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ৫:০৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
এনবিআরের তদন্তে মাহতাবুর রহমানের বিলাসবহুল বাড়ি নিয়ে প্রশ্ন এইমাত্রঅন্যান্য এনবিআরের তদন্তে মাহতাবুর রহমানের বিলাসবহুল বাড়ি নিয়ে প্রশ্ন ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বন্যার্ত মানুষের পাশে রয়েছে সরকার’ এইমাত্রঅন্যান্য ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বন্যার্ত মানুষের পাশে রয়েছে সরকার’ পোষ্য ও পথপ্রাণীর পরিচর্যায় সচেতনতা বাড়াতে বাকৃবিতে প্রশিক্ষণ কর্মশালা এইমাত্রঅন্যান্য পোষ্য ও পথপ্রাণীর পরিচর্যায় সচেতনতা বাড়াতে বাকৃবিতে প্রশিক্ষণ কর্মশালা এক রাতে রাশিয়ার ২৮ জাহাজে ভয়াবহ হামলা এইমাত্রঅন্যান্য এক রাতে রাশিয়ার ২৮ জাহাজে ভয়াবহ হামলা ঈশ্বরগঞ্জে নিখোঁজের একদিন পর গর্ত থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার এইমাত্রঅন্যান্য ঈশ্বরগঞ্জে নিখোঁজের একদিন পর গর্ত থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার আর্জেন্টিনা ম্যাচের টিকিটের দাম কমলো ৫২ শতাংশ এইমাত্রঅন্যান্য আর্জেন্টিনা ম্যাচের টিকিটের দাম কমলো ৫২ শতাংশ বাবার ‘নিষ্পাপ রক্তের’ প্রতিশোধ নেওয়া হবে: মোজতবা খামেনি এইমাত্রঅন্যান্য বাবার ‘নিষ্পাপ রক্তের’ প্রতিশোধ নেওয়া হবে: মোজতবা খামেনি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দ্বিগুণ করলো আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় এইমাত্রঅন্যান্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দ্বিগুণ করলো আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়
অন্যান্য

‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বন্যার্ত মানুষের পাশে রয়েছে সরকার’

প্রতিবেদক:
‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বন্যার্ত মানুষের পাশে রয়েছে সরকার’

সরকার সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশের প্রতিটি বন্যার্ত মানুষের পাশে রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দেশব্যাপী চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেওয়া নানা উদ্যোগ ও দিকনির্দেশনা তুলে ধরে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, দেশজুড়ে প্রবল বৃষ্টিপাতের ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন স্থানে বন্যা, পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান- এই পাঁচটি জেলায় জনমানুষের অবর্ণনীয় কষ্টের সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক এই পরিস্থিতি নিজে এবং তাঁর টিম মেম্বারদের মাধ্যমে মনিটরিং করছেন।

সরকারের এই মুখপাত্র জানান, ‘গতকালই (শুক্রবার) প্রধানমন্ত্রী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এই পাঁচ জেলার স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, ডিসি, এসপি, সিভিল সার্জন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘আগামীকালও (রোববার) প্রধানমন্ত্রী দেশের সব বিভাগীয় কমিশনারদের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন। উদ্ধার তৎপরতায় ইউএনও, ডিসি, এসপি থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিটি পর্যায়ের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় একটি সমন্বিত উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে অবস্থান করে পরিস্থিতি সরাসরি মনিটরিং করছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ তৃণমূল পর্যায়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন। এছাড়া, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তাঁর পুরো দল ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোকে (ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল) সাধারণ মানুষের পাশে থেকে উদ্ধার ও ত্রাণ কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং তারা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন।’

আর্থিক ও ত্রাণ সহায়তার বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে জরুরি ভিত্তিতে ২ কোটি টাকারও বেশি অর্থনৈতিক অনুদান নিশ্চিত করেছেন, যা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছানো হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের কাছে চাল ও প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার অবিরত প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

উদ্ধার ও চিকিৎসাসেবা প্রসঙ্গে মাহ্দী আমিন জানান, উপকূলবর্তী এলাকায় কোস্টগার্ড, সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবি এবং বিভিন্ন জেলায় প্রয়োজন অনুযায়ী সেনাবাহিনীকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। পানিবাহিত রোগ ও সাপের দংশন মোকাবিলায় পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন ও ওষুধসহ মেডিকেল টিম মোবিলাইজ করা হয়েছে। পানি নেমে যাওয়ার পরপরই রাস্তা ও রেলপথ দ্রুত মেরামতের জন্য এলজিইডি এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগকে প্রস্তুতি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত গৃহস্থালী, কৃষি, মৎস্য ও গবাদি পশু খামারিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কার্যকর উদ্যোগ শুরু হয়েছে। দ্রুতই খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু করা হবে। বর্তমানে সচল থাকা ১ হাজারেরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্রে খাদ্য, পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থাকে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। কিছু জায়গায় মোবাইল নেটওয়ার্ক বিঘ্নিত হলেও সংযোগ পুনঃস্থাপনে স্থানীয় প্রশাসন ও নেতাকর্মীরা কাজ করছেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই মুখপাত্র বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা মূলত রেসকিউ (উদ্ধার), রিলিফ (ত্রাণ) এবং রিহ্যাবিলিটেশন (পুনর্বাসন)—এই তিনটি ফেজ নিয়ে একসঙ্গে কাজ করছি। দুর্যোগের এই সময়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

তিনি বলেন, জনগণের নির্বাচিত সরকার হিসেবে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও গভীর মমত্ববোধ নিয়ে সরকার মানুষের সুরক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে এবং এই সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুতই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরে পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মাহ্দী আমিন।