মূল লেখায় যান
সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ৯:৩২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
অন্যান্য

জেন-জি বিক্ষোভে ফের উত্তাল নেপাল, বালেন শাহর পদত্যাগ দাবি

প্রতিবেদক:
জেন-জি বিক্ষোভে ফের উত্তাল নেপাল, বালেন শাহর পদত্যাগ দাবি

বেকারত্ব, অর্থনৈতিক সংকট এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশাকে কেন্দ্র করে আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে নেপাল। ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের জেরে রাজধানী কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। গত তিন দিনে তিন যুবক শরীরে পেট্রোল ঢেলে আত্মাহুতির চেষ্টা করেছেন। তাদের মধ্যে দু’জন মারা গেছেন, আরেকজন গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এসব ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহর পদত্যাগের দাবি আরও জোরালো হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা রাজধানীর রাজপথে নেমে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। প্রধান বিরোধী দল নেপালি কংগ্রেস অভিযোগ করেছে, তরুণদের মধ্যে আশা ও আস্থা ফিরিয়ে আনতে বালেন শাহর সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

তরুণদের সংগঠন ‘জেন-জি নেপাল’ও সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছে। সংগঠনটির অভিযোগ, সরকার গণবিরোধী ও কর্তৃত্ববাদী মনোভাব নিয়ে দেশ পরিচালনা করছে। তাদের দাবি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তরুণদের আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে বাজেট ও নীতিমালায় কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

২০২৩ সালের মন্তব্য ঘিরে নতুন বিতর্ক

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পর ২০২৩ সালে প্রেম আচার্য নামে এক ব্যক্তির আত্মাহুতির ঘটনাটি আবারও আলোচনায় এসেছে। সে সময় কাঠমান্ডুর মেয়র থাকা অবস্থায় বালেন্দ্র ‘বালেন’ শাহ ওই ঘটনাকে ‘রাষ্ট্রের চরম ব্যর্থতা’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান সংকট নিয়ে তার নীরবতা বিরোধী দল এবং আন্দোলনকারীদের সমালোচনার মুখে ফেলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো নেপালের তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য, ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব এবং সরকারের অর্থনৈতিক নীতির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

‘জেন-জি’ আন্দোলনের কেন্দ্রে বালেন শাহ

২০২২ সালে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর শহর পরিচ্ছন্নতা, ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের মাধ্যমে বালেন শাহ ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ফলে যানজট কিছুটা কমলেও হকার ও বস্তিবাসীদের একটি অংশের বিরোধিতার মুখেও পড়েন তিনি।

প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও তার প্রভাব ছিল উল্লেখযোগ্য। গত বছরের সেপ্টেম্বরের সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় তার গাওয়া ‘নেপাল হাসেকো’ (হাসছে নেপাল) গানটি বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিধিনিষেধ, বেকারত্ব, দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক স্থবিরতার প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত ওই আন্দোলনে অন্তত ৭৭ জন নিহত হন।

পরবর্তীতে ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে বালেন শাহর দল বড় ধরনের বিজয় অর্জন করে, যা নেপালের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হয়। তিনি ঝাপা-৫ আসনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলিকে পরাজিত করে জাতীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন। মাত্র ৩৫ বছর বয়সে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি নেপালের ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার রেকর্ড গড়েন।

সূত্র: এনডিটিভি