মূল লেখায় যান
শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬, ৯:৪৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
শেরপুরে আ.লীগ ও কৃষক লীগের ৩ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৯ এইমাত্রঅন্যান্য শেরপুরে আ.লীগ ও কৃষক লীগের ৩ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৯ জুলাইয়ের সঙ্গে গাদ্দারি করলে বাংলাদেশ কাউকে ছাড় দেবে না: সাদিক কায়েম এইমাত্রঅন্যান্য জুলাইয়ের সঙ্গে গাদ্দারি করলে বাংলাদেশ কাউকে ছাড় দেবে না: সাদিক কায়েম নওগাঁর পত্নীতলায় মাদকবিরোধী অভিযান, আটক ২ এইমাত্রঅন্যান্য নওগাঁর পত্নীতলায় মাদকবিরোধী অভিযান, আটক ২ অসুস্থ গরু জবাই করে মাংস বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে ২০ হাজার টাকা জরিমানা এইমাত্রঅন্যান্য অসুস্থ গরু জবাই করে মাংস বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে ২০ হাজার টাকা জরিমানা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় সার্বজনীন মানবিক দর্শনের বিকাশ জরুরি: তথ্যমন্ত্রী এইমাত্রঅন্যান্য বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় সার্বজনীন মানবিক দর্শনের বিকাশ জরুরি: তথ্যমন্ত্রী লিফটে আটকে গেলেই কি আতঙ্ক? জেনে রাখুন কার্যকর উপায় এইমাত্রঅন্যান্য লিফটে আটকে গেলেই কি আতঙ্ক? জেনে রাখুন কার্যকর উপায় গবেষণাপত্রে চুরি: এগিয়ে নর্থ সাউথ, ড্যাফোডিল ও ইউনাইটেড এইমাত্রঅন্যান্য গবেষণাপত্রে চুরি: এগিয়ে নর্থ সাউথ, ড্যাফোডিল ও ইউনাইটেড মোরেলগঞ্জে সেপটিক ট্যাংকের দেয়াল ধসে শ্রমিক নিহত এইমাত্রঅন্যান্য মোরেলগঞ্জে সেপটিক ট্যাংকের দেয়াল ধসে শ্রমিক নিহত
অন্যান্য

গাজা ছাড়বে কি ইসরায়েল? চাপে নেতানিয়াহু

প্রতিবেদক:
গাজা ছাড়বে কি ইসরায়েল? চাপে নেতানিয়াহু

ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাস ধাপে ধাপে অস্ত্র সমর্পণে সম্মত হলেও এর বিনিময়ে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের প্রশ্নে দেশটির রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ, অন্যদিকে নিজ সরকারের কট্টর ডানপন্থি জোটের বিরোধিতার মধ্যে কঠিন রাজনৈতিক সমীকরণের মুখে পড়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামাসের নিরস্ত্রীকরণ চুক্তিকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, চুক্তিতে ইসরায়েলও সন্তুষ্ট। প্রস্তাবিত সমঝোতা অনুযায়ী হামাস ধাপে ধাপে অস্ত্র সমর্পণ করবে। এর পাশাপাশি গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব ধীরে ধীরে একটি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানায়নি ইসরায়েল সরকার। শুক্রবার দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র হয়েছে—এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার আগে গাজা থেকে সেনা সরানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।

এদিকে সম্ভাব্য এই চুক্তির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি নেতারা। জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির বলেন, হামাসের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান কোনোভাবেই থামানো উচিত নয়। তার ভাষ্য, হামাসকে ছাড় দিলে ভবিষ্যতে আরও বড় হামলার ঝুঁকি তৈরি হবে। তিনি গাজায় সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখা এবং ফিলিস্তিনিদের এলাকা ছাড়তে উৎসাহিত করার পক্ষেও মত দিয়েছেন।

একই ধরনের অবস্থান নিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান ও নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকট। তিনি বলেন, হামাসের সামরিক ও রাজনৈতিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত কোনো চুক্তিকেই সফল বলা যাবে না। তার দাবি, প্রায় তিন বছর ধরে সংঘাত চললেও হামাস আবারও নিজেদের শক্তি পুনর্গঠন করেছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েলের জনমতের বড় অংশ এখনো কঠোর অবস্থানেই রয়েছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ৮২ শতাংশ ইহুদি ইসরায়েলি গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। আরেকটি জরিপে ৬৪ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, গাজায় কোনো নিরীহ মানুষ নেই। এছাড়া দেশটির অনেক মন্ত্রী ও রাজনীতিক গাজায় নতুন করে ইহুদি বসতি স্থাপনের পক্ষেও বক্তব্য দিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডালিয়া শেইন্ডলিনের মতে, নেতানিয়াহুর সবচেয়ে বড় চিন্তা আগামী জাতীয় নির্বাচন। দুর্নীতির মামলার কারণে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎও অনিশ্চয়তার মুখে। ফলে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঝুঁকি তিনি নিতে চাইবেন না, যাতে তার কট্টর ডানপন্থি জোট ভেঙে যায়।

শেইন্ডলিনের ধারণা, নেতানিয়াহু হয়তো সীমিত পরিসরে সেনাদের অবস্থান পরিবর্তনের মতো প্রতীকী পদক্ষেপ নিতে পারেন, তবে পুরো গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা খুবই কম। তার মতে, ইসরায়েল হয়তো ২০২৫ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে নির্ধারিত কিছু অবস্থানে ফিরে যেতে পারে, কিন্তু সম্পূর্ণভাবে গাজা ছাড়বে না।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চায়, হামাসের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা বাস্তবায়ন হোক। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইসরায়েল যদি চুক্তি কার্যকর না করে, তাহলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এতে গভীরভাবে হতাশ হবেন।

ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেসের অধ্যাপক ডভ ওয়াক্সম্যানের মতে, নেতানিয়াহু এখন অত্যন্ত জটিল পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন। তিনি যদি চুক্তির বিরোধিতা করেন, তাহলে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হতে পারে। আবার চুক্তি মেনে নিলে নিজের জোটের সমর্থন হারানোর আশঙ্কাও রয়েছে।

ইসরায়েলি পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষক নিমরোদ গোরেন মনে করেন, ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট রাখতে নেতানিয়াহু কূটনৈতিকভাবে ইতিবাচক বার্তা দিতে পারেন। তবে বাস্তবে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা খুবই কম। তার ধারণা, নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহু বরং সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার পথেই হাঁটতে পারেন।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা