মূল লেখায় যান
বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬, ৫:১৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
অর্থনৈতিক জরিপেও পিছিয়ে ট্রাম্প: প্রভাব ফেলতে পারে মধ্যবর্তী নির্বাচনে এইমাত্রঅন্যান্য অর্থনৈতিক জরিপেও পিছিয়ে ট্রাম্প: প্রভাব ফেলতে পারে মধ্যবর্তী নির্বাচনে আড়াই লাখের বেশি ইমাম-মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় কর্মী পাচ্ছেন মাসিক সম্মানি এইমাত্রঅন্যান্য আড়াই লাখের বেশি ইমাম-মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় কর্মী পাচ্ছেন মাসিক সম্মানি নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে নতুন দুঃসংবাদ, বাড়ছে হতাশা এইমাত্রঅন্যান্য নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে নতুন দুঃসংবাদ, বাড়ছে হতাশা জনগণ পরিবর্তন চেয়েছে বলেই জুলাই আন্দোলন সফল: প্রধানমন্ত্রী এইমাত্রঅন্যান্য জনগণ পরিবর্তন চেয়েছে বলেই জুলাই আন্দোলন সফল: প্রধানমন্ত্রী চুড়ি'র ব্যবসার আড়ালে প্রতারণার ফাঁদ, আবারও সক্রিয় হচ্ছেন নওশীন এইমাত্রঅন্যান্য চুড়ি'র ব্যবসার আড়ালে প্রতারণার ফাঁদ, আবারও সক্রিয় হচ্ছেন নওশীন ৫ লাখ না দিলে রিপন মিয়ার বাড়ি সেই কিশোরীর, আরো যা যা ঘটলো এইমাত্রঅন্যান্য ৫ লাখ না দিলে রিপন মিয়ার বাড়ি সেই কিশোরীর, আরো যা যা ঘটলো সরকার পতনের চূড়ান্ত আন্দোলনের সময় এখনো আসেনি: ডা. তাহের এইমাত্রঅন্যান্য সরকার পতনের চূড়ান্ত আন্দোলনের সময় এখনো আসেনি: ডা. তাহের জুলাই আন্দোলনে জাতিকে চরম ত্যাগ ও রক্তমূল্য দিতে হয়েছে: জামায়াত আমির এইমাত্রঅন্যান্য জুলাই আন্দোলনে জাতিকে চরম ত্যাগ ও রক্তমূল্য দিতে হয়েছে: জামায়াত আমির
অন্যান্য

গুম প্রতিরোধে নতুন আইনের খসড়া অনুমোদন, সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড

প্রতিবেদক:
গুম প্রতিরোধে নতুন আইনের খসড়া অনুমোদন, সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড

গুমের অপরাধকে স্বতন্ত্র ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রেখে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। একই সঙ্গে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তার পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রীয় আইনগত সহায়তার বিধানও রাখা হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৫তম বৈঠকে লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং-সাপেক্ষে আইনের খসড়াটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা, ব্যক্তি-স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গুমকে একটি স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য ও আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন আইনটি গুম প্রতিরোধ, দায়ী ব্যক্তিদের বিচার, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য একটি সমন্বিত আইনগত কাঠামো তৈরি করবে।

আইনে আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা জারি, অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার, ডিজিটাল সাক্ষ্য গ্রহণ, এবং সাক্ষী, অভিযোগকারী, তথ্য প্রকাশকারী ও ভুক্তভোগীর পরিচয় ও নিরাপত্তা সুরক্ষার বিধান রাখা হয়েছে।

এছাড়া ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবার তদন্তের অগ্রগতি, ঘটনার প্রকৃত তথ্য এবং গুম হওয়া ব্যক্তির অবস্থান বা পরিণতি জানার অধিকার পাবেন। তাদের জন্য সরকারি আইনগত সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠনের পাশাপাশি দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তা সম্ভব না হলে রাষ্ট্র ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে।

আইনে আরও বলা হয়েছে, গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী ও নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। এছাড়া পাঁচ বছর পরও নিখোঁজ ব্যক্তিকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা না গেলে উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের জন্য গুম সনদ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি গুমসংক্রান্ত কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন আইনে তদন্ত সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে এবং বিচারকাজ পরবর্তী ১২০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

শাস্তির বিধানে বলা হয়েছে, গুমের অপরাধে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া যাবে। আর গুমের ফলে মৃত্যু হলে, মরদেহ উদ্ধার হলে অথবা পাঁচ বছর পরও নিখোঁজ ব্যক্তিকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হলে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

সম্পত্তি হস্তান্তর আইনেও সংশোধন
মন্ত্রিসভা ‘The Transfer of Property (Amendment) Act, 2026’-এর খসড়ারও নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। এর মাধ্যমে পিতা-মাতা বা দাদা-দাদি সন্তান বা নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দান করলেও নিজেদের জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ-ব্যবহারের আইনগত অধিকার (Lifetime Usufruct) সংরক্ষণ করতে পারবেন।

১৯৯৪ সালের ওষুধের মূল্য তালিকাই বহাল
এছাড়া ‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ২০২৬’ এবং ‘ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ২০২৬’ বাতিলের প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। সরকার জানিয়েছে, জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদের পরামর্শ ছাড়া তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি প্রণয়ন করায় তা আইনি জটিলতায় পড়ে। নতুন তালিকা প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত ১৯৯৪ সালের অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও সরকারি মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা বহাল থাকবে। একই সঙ্গে জনগণের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে নতুনভাবে ওষুধের মূল্য নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।