জুলাই আন্দোলনে জাতিকে চরম ত্যাগ ও রক্তমূল্য দিতে হয়েছে: জামায়াত আমির
জুলাই আন্দোলনে জাতিকে চরম ত্যাগ-তিতিক্ষা ও রক্তমূল্য দিতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর দাবি, আন্দোলন চলাকালে পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী ও বিজিবির একাংশের গুলিতে প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিহত এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৫ আগস্ট বাংলাদেশের জাতীয় জীবনের ইতিহাসে একটি গৌরবময় ও স্মরণীয় দিন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এদিন শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, তরুণ-তরুণী, শিশু-বৃদ্ধ, নাগরিক সমাজ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এক দাবিতে রাজপথে ঐক্যবদ্ধ হন। পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের এক দফা আন্দোলনে রূপ নেয়।
তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলন দমনে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে এসব বাধা উপেক্ষা করে আন্দোলনকারীরা বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে দেশব্যাপী গণআন্দোলন গড়ে তোলেন। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা দলীয় নেতাদের নিয়ে ভারত চলে যান এবং এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সাড়ে ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।
বাণীতে জামায়াতের আমির বলেন, জুলাই আন্দোলনে জাতিকে বড় ধরনের মূল্য দিতে হয়েছে। তাঁর দাবি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিহত হন, প্রায় ৩০ হাজার আহত হন এবং কয়েক হাজার মানুষ হাত, পা বা চোখ হারিয়ে স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেন।
তিনি শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমসহ আন্দোলনে নিহতদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাঁদের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন। পাশাপাশি আহত, পঙ্গুত্ব বরণকারী এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতিও সমবেদনা ও কৃতজ্ঞতা জানান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, সুশাসন ও ন্যায়বিচারভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন কারণে সেই প্রত্যাশা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। তাই শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
বাণীর শেষাংশে তিনি দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও সার্বভৌমত্ব কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।
