নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে নতুন দুঃসংবাদ, বাড়ছে হতাশা
নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের অপেক্ষায় থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। গত ১ জুলাই থেকে নবম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও এ বিষয়ে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
যদিও নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এটি অন্তত দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। তবে সরকার সেই সুপারিশ গ্রহণ না করে দ্রুত নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের দিকেই এগোচ্ছে।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, নতুন বেতন কাঠামোর কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেলেই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। অর্থ বিভাগের সূত্র জানিয়েছে, আগামী অক্টোবরে আইএমএফের বার্ষিক সভার আগেই গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে।
বাংলাদেশে সর্বশেষ অষ্টম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হয় ২০১৫ সালে। এরপর প্রতি বছর ৫ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হলেও নতুন কোনো পে স্কেল ঘোষণা হয়নি। এ সময়ে মূল্যস্ফীতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এবং জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামোর দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে নবম জাতীয় পে কমিশন সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়।
তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২১ এপ্রিল একটি পৃথক পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই নতুন পে স্কেল বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন পে স্কেলের আওতায় প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কয়েক লাখ পেনশনভোগী অন্তর্ভুক্ত হবেন। মূল বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতা ও পেনশন খাতে সরকারের ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় প্রায় ৮২ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। এ কারণেই আইএমএফ বাস্তবায়ন দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। সংস্থাটির আশঙ্কা, এতে বাজেট ঘাটতি ও মূল্যস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
তবে সরকার এ বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে নতুন পে স্কেলের আর্থিক প্রভাব ও বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নীতিগত সিদ্ধান্ত বহাল রেখে প্রয়োজন হলে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেন।
এদিকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, নতুন পে স্কেলের সঙ্গে আইএমএফের ঋণের কোনো সম্পর্ক নেই। তার ভাষ্য, মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিললেই প্রজ্ঞাপন জারিতে আর বেশি সময় লাগবে না।
