মূল লেখায় যান
মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ১০:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ইউক্রেন থেকে পালিয়েছে ৪৪ লাখের বেশি মানুষ এইমাত্রঅন্যান্য ইউক্রেন থেকে পালিয়েছে ৪৪ লাখের বেশি মানুষ তদন্তে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলা, আহত ৫ নারীসহ গ্রেপ্তার ৭ এইমাত্রঅন্যান্য তদন্তে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলা, আহত ৫ নারীসহ গ্রেপ্তার ৭ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক নিয়ে যা জানালেন জয়সোয়াল এইমাত্রঅন্যান্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক নিয়ে যা জানালেন জয়সোয়াল মুস্তাফিজকে ধরে রাখল ক্যাপিটালস এইমাত্রঅন্যান্য মুস্তাফিজকে ধরে রাখল ক্যাপিটালস থাইল্যান্ডে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অভিনেতা খায়রুল বাসার এইমাত্রঅন্যান্য থাইল্যান্ডে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অভিনেতা খায়রুল বাসার চালু হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত ৩ পাটকল, কর্মসংস্থান হবে ১১ হাজার মানুষের এইমাত্রঅন্যান্য চালু হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত ৩ পাটকল, কর্মসংস্থান হবে ১১ হাজার মানুষের নাসির উদ্দিনের অনুপস্থিতিতে জবির প্রক্টরের দায়িত্বে আজম খান এইমাত্রঅন্যান্য নাসির উদ্দিনের অনুপস্থিতিতে জবির প্রক্টরের দায়িত্বে আজম খান জবি শিক্ষার্থীদের বাসে হামলা, আহত অন্তত ১০ এইমাত্রঅন্যান্য জবি শিক্ষার্থীদের বাসে হামলা, আহত অন্তত ১০
অন্যান্য

বানর তাড়াতে চাকরি পেলেন ‘বানর ডাকতে জানা’ মানুষ!

প্রতিবেদক:
বানর তাড়াতে চাকরি পেলেন ‘বানর ডাকতে জানা’ মানুষ!

একজন মানুষকে চাকরি দেওয়া হয়েছে বানরের ডাক নকল করার জন্য! শুনতে গল্পের মতো মনে হলেও ঘটনাটি একেবারেই সত্যি। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আসন্ন ব্যাডমিন্টন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে বানরের উৎপাত ঠেকাতে এমন অভিনব ব্যবস্থা নিয়েছেন আয়োজকেরা।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক এই ক্রীড়া আয়োজন নির্বিঘ্ন রাখতে এমন কয়েকজন কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে, যারা ল্যাঙ্গুরের ডাক হুবহু নকল করতে পারেন। তাদের কাজ হবে স্টেডিয়াম এলাকায় রেসাস বানর ঢুকে পড়লে বিশেষ ধরনের ডাক দিয়ে সেগুলোকে দূরে সরিয়ে দেওয়া। 

কেন বানর তাড়াতে মানুষ লাগছে?

নয়াদিল্লিতে রেসাস বানরের উপস্থিতি নতুন কোনো বিষয় নয়। শহরের বিভিন্ন এলাকায় এসব বানর মানুষের বসতি ও ভবনে ঢুকে পড়ে। খাবারের সন্ধানে তারা কখনো কখনো এমন জায়গাতেও চলে যায়, যেখানে তাদের উপস্থিতি বেশ সমস্যার কারণ হতে পারে।

ব্যাডমিন্টন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের মতো বড় আন্তর্জাতিক আয়োজনে তাই বিষয়টিকে হালকাভাবে নিতে চাইছেন না আয়োজকেরা। কারণ একটি বানর স্টেডিয়ামের ভেতরে ঢুকে পড়লে শুধু দর্শকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হতে পারে না, ব্যাহত হতে পারে চলমান ম্যাচও।

এর বাস্তব উদাহরণও রয়েছে।

এর আগে ইন্ডিয়ান ওপেনের সময় একটি বানর স্টেডিয়ামের ভেতরে ঢুকে পড়েছিল। সেই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বড় টুর্নামেন্টে বানরের উৎপাত ঠেকাতে নতুন করে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

বানরের ডাকেই কেন পালায় বানর? এখানেই গল্পের সবচেয়ে মজার অংশ। আয়োজকেরা যাদের নিয়োগ দিয়েছেন, তারা আসলে ল্যাঙ্গুরের ডাক অনুকরণ করেন। কারণ রেসাস বানর সাধারণত ল্যাঙ্গুরকে ভয় পায়। ল্যাঙ্গুর আকারে তুলনামূলকভাবে বড় এবং তাদের চেহারাও রেসাস বানরের চেয়ে আলাদা। ফলে ল্যাঙ্গুরের উপস্থিতি বা ডাক শুনলে ছোট প্রজাতির বানরগুলো সতর্ক হয়ে দূরে সরে যেতে পারে। এই স্বাভাবিক আচরণকেই কাজে লাগাচ্ছেন আয়োজকেরা।

অর্থাৎ বানর ধরতে হবে না, জাল ফেলতে হবে না, এমনকি কোনো ক্ষতিকর পদ্ধতিও ব্যবহার করতে হবে না—শুধু এমনভাবে ডাকতে হবে, যাতে বানর মনে করে আশপাশে ল্যাঙ্গুর রয়েছে!

বানর ডাকতে’ জানেন কীভাবে?

এই কাজে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন জাফর নামে একজন, যিনি তৃতীয় প্রজন্মের বানর-অনুকরণকারী। অর্থাৎ তার পরিবারে বহুদিন ধরেই এই বিশেষ দক্ষতার চর্চা রয়েছে। তার মতো দক্ষ ব্যক্তিরা শুধু মুখের আওয়াজ বা নির্দিষ্ট শব্দ ব্যবহার করেই ল্যাঙ্গুরের ডাকের মতো শব্দ তৈরি করতে পারেন। শুনতে যতটা সহজ মনে হচ্ছে, কাজটি আসলে ততটা সহজ নয়। কারণ আসল উদ্দেশ্য হলো বানরকে ভয় দেখানো নয়, বরং তার স্বাভাবিক আচরণকে কাজে লাগিয়ে তাকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দেওয়া।

বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনের আগে দিল্লির আয়োজকদের মাথাব্যথা শুধু বানর নিয়ে নয়। স্টেডিয়াম এলাকায় কবুতরের উৎপাতও একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগেও কবুতরের উপস্থিতি বিভিন্ন ম্যাচে বিঘ্ন তৈরি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এবার তাই পাখিদের বসা নিরুৎসাহিত করতে স্টেডিয়ামের নির্দিষ্ট জায়গায় অ-বিষাক্ত জেল ব্যবহার করা হয়েছে।

অর্থাৎ খেলোয়াড়দের প্রতিপক্ষ শুধু কোর্টের অপর প্রান্তে থাকা প্রতিপক্ষ নয়—কখনো কখনো গ্যালারি কিংবা ছাদের ওপর থেকেও হাজির হতে পারে অপ্রত্যাশিত ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’!

বিশ্বকাপ আয়োজনের আগে কেন এত প্রস্তুতি?

এবারের ব্যাডমিন্টন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি আন্তর্জাতিক আয়োজন। তাই স্টেডিয়ামের অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে কোনো ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে না আয়োজকেরা। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আয়োজকেরা ভারতের বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজন করার সক্ষমতাও তুলে ধরতে চাইছেন। ভবিষ্যতে ২০৩০ কমনওয়েলথ গেমস এবং সম্ভাব্য ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গেও এই প্রস্তুতির বিষয়টি যুক্ত।

ভাবুন তো, আপনি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে দিল্লিতে গেলেন। কোর্টে প্রতিপক্ষের সার্ভ সামলাচ্ছেন, আর ঠিক তখনই গ্যালারি থেকে শোনা গেল—‘হুপ! হুপ!’ তবে সেটা কোনো দর্শকের চিৎকার নয়; কোনো বানরও নয়—একজন মানুষ ল্যাঙ্গুরের ডাক নকল করছেন!

ঘটনাটি মজার হলেও এর পেছনে রয়েছে বেশ বাস্তব একটি পরিকল্পনা। আয়োজকেরা চান, প্রাণীদের তাড়াতে এমন কোনো পদ্ধতি ব্যবহার না করে তাদের স্বাভাবিক আচরণকেই কাজে লাগানো হোক।

বিশ্বের অন্যতম বড় ব্যাডমিন্টন আসরে খেলোয়াড়রা যখন র‍্যাকেট হাতে শাটলককের পেছনে ছুটবেন, তখন স্টেডিয়ামের বাইরে আরও একদল মানুষ ব্যস্ত থাকবেন একেবারেই অন্য কাজে। তাদের হাতে থাকবে না র‍্যাকেট, থাকবে না কোনো বিশেষ অস্ত্র।

একটু ল্যাঙ্গুরের মতো ডাক, আর তাতেই হয়তো সরে যাবে স্টেডিয়ামে ঢুকে পড়া বানর। খেলা শুরুর আগেই তাই দিল্লির এই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত চাকরি—‘মাঙ্কি হুইস্পারার’ বা বানর-তাড়ানো মানুষ। আর এই গল্পই হয়তো প্রমাণ করে—কখনো কখনো বড় কোনো আন্তর্জাতিক আয়োজন সফল করতে সবচেয়ে অদ্ভুত কাজটিই সবচেয়ে প্রয়োজনীয় হয়ে উঠতে পারে। 

‘মাঙ্কি হুইস্পারার’দের নিয়োগের খবরটি ১০ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশ্যে আসে রয়টার্সের প্রতিবেদনের মাধ্যমে।
BWF ব্যাডমিন্টন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ
মূল ভেন্যু: ইন্দিরা গান্ধী ইন্ডোর স্টেডিয়াম/অ্যারেনা
বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের তারিখ: ১৭–২৩ আগস্ট ২০২৬
স্থান: নয়াদিল্লি, ভারত

সূত্র: রয়টার্স