মূল লেখায় যান
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
শার্শায় ৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ মা-ছেলে আটক এইমাত্রঅন্যান্য শার্শায় ৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ মা-ছেলে আটক জাতীয় সংগীতের ব্যাকগ্রাউন্ডে শেখ হাসিনার ছবি, নোবিপ্রবির দুই শিক্ষক শোকজ এইমাত্রঅন্যান্য জাতীয় সংগীতের ব্যাকগ্রাউন্ডে শেখ হাসিনার ছবি, নোবিপ্রবির দুই শিক্ষক শোকজ হামলা-মামলা পেরিয়ে দক্ষিণ যুবদলের নেতৃত্বের আলোচনায় জবির আসলাম এইমাত্রঅন্যান্য হামলা-মামলা পেরিয়ে দক্ষিণ যুবদলের নেতৃত্বের আলোচনায় জবির আসলাম ঢাবি’র অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. নূরজাহান সরকার আর নেই এইমাত্রঅন্যান্য ঢাবি’র অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. নূরজাহান সরকার আর নেই লালমনিরহাটে পুলিশ সেজে গাঁজা পাচার, ৯.৪ কেজি গাঁজাসহ আটক ৩ এইমাত্রঅন্যান্য লালমনিরহাটে পুলিশ সেজে গাঁজা পাচার, ৯.৪ কেজি গাঁজাসহ আটক ৩ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর সৌজন্য সাক্ষাৎ এইমাত্রঅন্যান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর সৌজন্য সাক্ষাৎ পুরুষের তুলনায় নারীদের মাইগ্রেন বেশি কেন? জানুন এর পেছনের কারণ এইমাত্রঅন্যান্য পুরুষের তুলনায় নারীদের মাইগ্রেন বেশি কেন? জানুন এর পেছনের কারণ কুকুরের উৎপাত নিয়ে ৬ মাসেও ব্যবস্থা নেই, কর্মকর্তার টেবিলে দিলেন কুকুর এইমাত্রঅন্যান্য কুকুরের উৎপাত নিয়ে ৬ মাসেও ব্যবস্থা নেই, কর্মকর্তার টেবিলে দিলেন কুকুর
অন্যান্য

বিশ্বের বজ্রপাতের রাজধানী: ভেনেজুয়েলার কাতাতুম্বো

প্রতিবেদক:
বিশ্বের বজ্রপাতের রাজধানী: ভেনেজুয়েলার কাতাতুম্বো

আকাশে হঠাৎ বিদ্যুতের ঝলকানি আর বজ্রধ্বনি আমাদের কাছে সাধারণত বর্ষাকালের পরিচিত দৃশ্য। কিন্তু পৃথিবীতে এমন একটি স্থান আছে, যেখানে বজ্রপাত এতটাই নিয়মিত যে স্থানীয় মানুষ একে বলে ‘চিরন্তন বজ্রঝড়’ (Everlasting Storm)। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলার মারাকাইবো হ্রদ (Lake Maracaibo) এবং এর সঙ্গে মিলিত হওয়া কাতাতুম্বো নদীর (Catatumbo River) মোহনা পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বজ্রপাতপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।

কাতাতুম্বো বজ্রপাত: প্রকৃতির বিস্ময়

এই বিরল আবহাওয়াগত ঘটনাটি ‘কাতাতুম্বো লাইটনিং’ (Catatumbo Lightning) নামে পরিচিত। বছরের অধিকাংশ সময় রাতের আকাশে এখানে অবিরাম বিদ্যুতের ঝলকানি দেখা যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, মারাকাইবো হ্রদের এই অঞ্চলে গড়ে প্রতি বছর প্রায় ২৯৭ দিন বজ্রঝড় হয়, যা পৃথিবীর অন্য যেকোনো স্থানের তুলনায় বেশি।

বিভিন্ন গবেষণা ও পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এখানে একেক রাতে বজ্রপাতের প্রদর্শনী ৯ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে এবং কখনও কখনও প্রতি মিনিটে ১৬ থেকে ৪০ বার পর্যন্ত বিদ্যুতের ঝলকানি** দেখা যায়।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, বেশি বজ্রপাত এর পেছনে রয়েছে মারাকাইবো হ্রদের অনন্য ভৌগোলিক অবস্থান। হ্রদটি আন্দিজ পর্বতমালার কয়েকটি শাখা দ্বারা প্রায় বেষ্টিত। দিনের বেলায় হ্রদের উষ্ণ পানি ও আশপাশের ভূমি থেকে বিপুল পরিমাণ জলীয়বাষ্প তৈরি হয়। রাতে পর্বত থেকে নেমে আসা ঠান্ডা বাতাস এই উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ুর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ফলে দ্রুত শক্তিশালী বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হয় এবং শুরু হয় ব্যাপক বজ্রপাত।

আবহাওয়াবিদদের মতে, হ্রদের উষ্ণ জল, আর্দ্রতা, পর্বতঘেরা ভূপ্রকৃতি এবং বায়ুপ্রবাহের বিশেষ সমন্বয় পৃথিবীর আর কোথাও এত নিখুঁতভাবে দেখা যায় না। এ কারণেই অঞ্চলটি বিশ্বের শীর্ষ বজ্রপাত ‘হটস্পট’ হিসেবে স্বীকৃত।

বিশ্বের বজ্রপাতের রাজধানী: ভেনেজুয়েলার কাতাতুম্বো

 নাবিকদের ‘প্রাকৃতিক বাতিঘর’

কাতাতুম্বো বজ্রপাত এতটাই উজ্জ্বল যে শত শত বছর আগে ক্যারিবীয় সাগরের নাবিকরা এটি ‘মারাকাইবোর বাতিঘর’ (Lighthouse of Maracaibo) হিসেবে ব্যবহার করতেন। রাতের অন্ধকারে দূর থেকে দেখা যেত বিদ্যুতের অবিরাম ঝলকানি, যা তাদের দিকনির্দেশনা দিত। ঐতিহাসিক নথিতেও এর উল্লেখ পাওয়া যায়।

বিশ্বের বজ্রপাতের রাজধানী

২০১৬ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় উপগ্রহ তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেন যে ভেনেজুয়েলার মারাকাইবো হ্রদই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বজ্রপাত কেন্দ্র। পূর্বে আফ্রিকার কঙ্গো অববাহিকাকে শীর্ষে মনে করা হলেও নতুন বিশ্লেষণে মারাকাইবো অঞ্চলকে বিশ্বের প্রধান বজ্রপাত হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

বর্তমানে এই অঞ্চলকে অনেকেই “Lightning Capital of the World” বা বিশ্বের বজ্রপাতের রাজধানী বলে অভিহিত করেন।

বিশ্বের বজ্রপাতের রাজধানী: ভেনেজুয়েলার কাতাতুম্বো

পর্যটকদের আকর্ষণ

প্রকৃতির এই অনন্য আলোকমেলা দেখতে প্রতি বছর বহু পর্যটক ভেনেজুয়েলায় ভিড় জমান। রাতে নৌকাভ্রমণের মাধ্যমে তারা হ্রদের ওপর আকাশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিদ্যুতের ঝলকানি উপভোগ করেন। স্থানীয় পর্যটন শিল্পেও কাতাতুম্বো বজ্রপাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 

বজ্রপাত সাধারণত ভয় ও সতর্কতার প্রতীক হলেও ভেনেজুয়েলার কাতাতুম্বো অঞ্চলে এটি এক অনন্য প্রাকৃতিক বিস্ময়। বছরের অধিকাংশ সময় আকাশজুড়ে চলতে থাকা এই আলোর খেলা পৃথিবীর আবহাওয়াবিজ্ঞানীদের কাছে যেমন গবেষণার বিষয়, তেমনি প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছেও এক অবিশ্বাস্য আকর্ষণ। প্রকৃতির শক্তি ও সৌন্দর্যের এমন বিরল সমন্বয় পৃথিবীতে আর কোথাও দেখা যায় না।

সূত্র: এমএএস, এনওএএ, আকু ওয়েদার