শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে ‘ইলেকট্রিক শক’ দেওয়ার দাবি রেহানার
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু। তিনি বলেছেন, অনৈক্যের সুযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এলে যারা একসময় ফেসবুকের প্রোফাইল লাল করেছিলেন, তাদের জীবন ‘কালো করে ছাড়বেন’।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে কথিত ‘আয়না ঘরে’ ব্যবহৃত চেয়ারে বসিয়ে ইলেকট্রিক শক দেওয়ার দাবি জানিয়ে রানু বলেন, সম্প্রতি তিনি একটি আয়না ঘর এবং সেখানে ব্যবহৃত একটি চেয়ার দেখেছেন, যেখানে অতীতে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। একই ধরনের শাস্তি শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেও প্রয়োগের দাবি জানান তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ১১ জনের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সংসদ সদস্য বলেন, নিহতদের স্বজনরা পুলিশ প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, পুলিশ অনেক আসামিকে গ্রেপ্তার করছে না, আর গ্রেপ্তার হলেও আদালত থেকে জামিন পেয়ে যাচ্ছে। তারা শুধু সন্তান হত্যার বিচার চান।
বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনায় রেহানা আক্তার রানু বলেন, বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র চার মাস। প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে এখনও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা রয়েছেন, যারা সরকারকে যথাযথ সহযোগিতা করছেন না। এ অবস্থায় বাজেট বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব হবে, তা ভেবে দেখার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজস্ব আদায়ের চেয়ে কর্মকর্তারা নিজেদের স্বার্থে বেশি ব্যস্ত থাকেন। রাজস্ব বৃদ্ধি করতে হলে এনবিআরে ‘সার্জিক্যাল অপারেশন’ প্রয়োজন। একইসঙ্গে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর বাজার তদারকির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ব্যাংক খাতের অনিয়মের সমালোচনা করে রানু বলেন, কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন ব্যাংক লুট করে বিদেশে বিলাসী জীবনযাপন করছেন। অথচ সাধারণ গ্রাহকরা নিজেদের অর্থ তুলতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন। তিনি এসব অর্থ আত্মসাৎকারীর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানান।
সরকারি হাসপাতালের সেবার মান নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে নার্সদের অসদাচরণের অভিযোগ পাওয়া যায়, যা রোগীদের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোটের আগে একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচন ঠেকাতে নানা ষড়যন্ত্র করেছিল। তবে সরকারের নেতৃত্বে সেই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে এবং একইভাবে বাজেটও সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে রেহানা আক্তার রানু বলেন, বর্তমানে সংসদে জাতীয় পার্টির মতো ‘মিউ মিউ’ ধরনের বিরোধী দল নয়, বরং সক্রিয় ও শক্তিশালী বিরোধী দল রয়েছে। তবে একটি দলের দাবি—তাদের ১৬৮টি আসন পাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু বিএনপি কৌশলে তাদের ৬৮টি আসন দিয়েছে—এ বক্তব্যকে তিনি ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেন।
এ সময় নির্বাচনের আগে ফেনীর এক নারী ভোটারের মন্তব্যও তুলে ধরেন তিনি। ওই ভোটার বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রতীকের জনপ্রিয়তা তুলনা করে ধানের শীষের পক্ষে জনসমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বলে জানান বিএনপির এই সংসদ সদস্য।
