পরিসংখ্যান ব্যুরোর সকল অফিস ধূমপান ও তামাক মুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং অধূমপায়ীদের পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো অধীনস্থ দেশের সকল কার্যালয় প্রাঙ্গণকে শতভাগ তামাকমুক্ত করার উদ্যোগ অতি দ্রুত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-র মহাপরিচালক মো: শামীমুল হক।
আজ বুধবার (১৯ আগস্ট ২০২৬) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-র সভাকক্ষে উবিনীগ (উন্নয়ন বিকল্পের নীতি নির্ধারণী গবেষণা) এর কারিগরি সহায়তায় এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো’র আয়োজনে ‘বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো’কে শতভাগ ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার মুক্ত ঘোষণা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি তার বক্তব্যে আরও বলেন, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য আমাদের শরীরে ক্ষতি ছাড়া কোনো উপকার করে না। অসংক্রামক রোগের অন্যতম কারণ হলো তামাকজাতদ্রব্য। তাই আমাদের সবার উচিৎ তামাকজাত দ্রব্য থেকে নিজেদের বিরত রাখা।
সভায় উপস্থাপিত মুল প্রবন্ধে তামাক ও ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব, ধূমপানের কারণে সৃষ্ট বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি, পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর দিক এবং তামাক ব্যবহারের বর্তমান চিত্র এবং বর্তমান সরকারের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণের অগ্রধিকারের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়, বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের কারণে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ মানুষ মারা যান। দেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ (৩৫.৩%) প্রাপ্তবয়স্ক তামাক ব্যবহার করেন। উদ্বেগজনকভাবে, শুধু কর্মক্ষেত্রেই ৪২.৭ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতিদিন পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে আসেন। এছাড়া তামাক ব্যবহারের স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ বিপুল—২০২৪ সালে এর পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, বিপরীতে সরকারের রাজস্ব ছিল মাত্র ৪১ হাজার কোটি টাকা।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জনাব মো: আলমগীর হোসেন বলেন, ধূমপান ও তামাকমুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা একটি সুস্থ, নিরাপদ ও জনবান্ধব কর্মপরিবেশ গড়ে তুলবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সারা দেশে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে প্রতিদিন বিভিন্ন সেবা গ্রহণে আগত সেবাগ্রহীতা ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা পাবেন।
ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (সংশোধন ২০২৬) কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি তামাকজনিত রোগ ও মৃত্যুর হারও কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে পরিসংখ্যান ব্যুরোর এই সিদ্ধান্ত ইতিবাচক দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করবে বলে তারা মনে করেন। পরিসংখ্যান ব্যুরো শুধু তথ্য নিয়েই কাজ করে না সামাজিক কর্মকাণ্ডতেও অংশগ্রণ করে তার প্রতিফলন ঘটবে।
উক্ত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো এর উপমহাপরিচালক জনাব মোঃ ওবায়দুল ইসলামসহ বিভিন্ন উইং এর পরিচালক, উপ-পরিচালক, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী।
