মূল লেখায় যান
মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২:২৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
গোপালপুরে এসএসসি ও সমমানে ৩০ শতাংশের নিচে পাস সাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এইমাত্রঅন্যান্য গোপালপুরে এসএসসি ও সমমানে ৩০ শতাংশের নিচে পাস সাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইরানের হামলার ভয়ে ট্রাকে লুকিয়ে তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্প এইমাত্রঅন্যান্য ইরানের হামলার ভয়ে ট্রাকে লুকিয়ে তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্প গুলশান থেকে আ.লীগ নেতা মুরাদ গ্রেপ্তার এইমাত্রঅন্যান্য গুলশান থেকে আ.লীগ নেতা মুরাদ গ্রেপ্তার সরকারের ছয় মাসের অর্জন তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী: তথ্য উপদেষ্টা এইমাত্রঅন্যান্য সরকারের ছয় মাসের অর্জন তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী: তথ্য উপদেষ্টা ভক্তদের কাছে ক্ষমা চাইলেন অমিতাভ বচ্চন এইমাত্রঅন্যান্য ভক্তদের কাছে ক্ষমা চাইলেন অমিতাভ বচ্চন ৩৫ বছর পর আবারও ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া এইমাত্রঅন্যান্য ৩৫ বছর পর আবারও ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া প্রায় ২ লাখ ভিসা বাতিল, মার্কিন ভিসা নিয়ে দুঃসংবাদ এইমাত্রঅন্যান্য প্রায় ২ লাখ ভিসা বাতিল, মার্কিন ভিসা নিয়ে দুঃসংবাদ সরিষাবাড়ীতে তিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশ করেনি কেউ এইমাত্রঅন্যান্য সরিষাবাড়ীতে তিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশ করেনি কেউ
অন্যান্য

শেরপুরে জলাবদ্ধতার পানি নিষ্কাশনে তীব্র স্রোত ভাঙন আতঙ্ক, ঝুঁকিতে ফসলি জমি ও বসতভিটা

প্রতিবেদক:
শেরপুরে জলাবদ্ধতার পানি নিষ্কাশনে তীব্র স্রোত ভাঙন আতঙ্ক, ঝুঁকিতে ফসলি জমি ও বসতভিটা

ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার পানি নামতে গিয়ে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে।

মির্জাপুর ও শাহ-বন্দেগী ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি গ্রামের বৃষ্টির পানি বিশ্বরোড সংলগ্ন ড্রেন দিয়ে প্রবল স্রোতে কৃষ্ণপুর গ্রামের ভেতর দিয়ে করতোয়া নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে ওই এলাকার ফসলি জমি, বসতভিটা ও বিদ্যুতের খুঁটি চরম হুমকির মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যেই পানির তীব্র স্রোতে কৃষিজমি ভাঙতে শুরু করেছে এবং ভাঙনের কবলে পড়েছে দুটি বিদ্যুতের খুঁটি।

নিরাপত্তার স্বার্থে পার্শ্ববর্তী ধুনট উপজেলার প্রায় ১০ হাজার পরিবারের বিদ্যুৎ সংযোগ বেশ কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখতে হয়েছিল। গত বছর এই এলাকায় প্রায় ১ কিলোমিটার অংশ ভেঙেছিল, আর চলতি বছরের বর্ষার শুরুতেই নতুন করে আরও ৩ মিটার অংশ ধসে গেছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে কৃষ্ণপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্বরোডের ড্রেন দিয়ে আসা পানির স্রোত এতই তীব্র যে, তা কৃষ্ণপুর গ্রামের পাশের ফসলি জমিতে আছড়ে পড়ছে এবং মাটি ধসে যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে মদনপুর, কৃষ্ণপুর, যমুনাপাড়া, আন্দীকুমড়া, বাগমারা, হাতিগাড়া, কানাইকান্দর ও ফুলতলাসহ দুই ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি গ্রামের বৃষ্টির পানি একমাত্র এই পথটি দিয়েই প্রবাহিত হয়ে করতোয়া নদীতে গিয়ে পড়ে। ফলে বর্ষায় পানির চাপ কয়েকগুণ বেড়ে গিয়ে এই ভয়াবহ ভাঙনের সৃষ্টি হয়।

ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক রফিকুল ও সাইদুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও ভারী বৃষ্টির ফলে পানির চাপে আমাদের কৃষিজমি ভাঙতে শুরু করেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে চাষাবাদের জমি বিলীন হয়ে যাবে। একই ক্ষোভ ও আশঙ্কা প্রকাশ করেন কৃষক খোকন চন্দ্র রায়, শাহিন সেখ এবং শাহ আলী। তাদের ফসলি জমি এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বসতভিটা হারানোর শঙ্কায় দিন কাটানো পারভীন বেগম বলেন, আমাদের জমিসহ ঘরবাড়িও এখন ভাঙনের মুখে। আমরা খুব আতঙ্কে আছি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দুই ইউনিয়নের বিশাল এলাকার পানি একই ড্রেন দিয়ে প্রবাহিত হলেও পানি নিষ্কাশনের কোনো স্থায়ী ও পরিকল্পিত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই কৃষিজমি ও বসতভিটা ভাঙনের শিকার হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার মতো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আখতার হোসেন সমস্যার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এই সমস্যাটি দীর্ঘদিনের। বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য আমরা স্থানীয় সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইদুজ্জামান হিমু জানান, ভাঙনের বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। তিনি বলেন, দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের দুর্ভোগ কমাতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের বিষয়েও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।