মূল লেখায় যান
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কের মৃত্যু এমপি লাভলুর শোক এইমাত্রঅন্যান্য স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কের মৃত্যু এমপি লাভলুর শোক কুমিল্লায় নারী হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার এইমাত্রঅন্যান্য কুমিল্লায় নারী হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি, চেন্নাইয়ে রোড শো করছেন মোদি এইমাত্রঅন্যান্য বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি, চেন্নাইয়ে রোড শো করছেন মোদি যমুনা ফিউচার পার্কে আলফা স্টোর চালু করল অনার, মিলবে স্মার্ট ইকোসিস্টেমের বিভিন্ন পণ্য এইমাত্রঅন্যান্য যমুনা ফিউচার পার্কে আলফা স্টোর চালু করল অনার, মিলবে স্মার্ট ইকোসিস্টেমের বিভিন্ন পণ্য সৌদির বিমানবন্দর ও আকাশসীমা ব্যবহার না করতে সতর্ক করল হুতিরা এইমাত্রঅন্যান্য সৌদির বিমানবন্দর ও আকাশসীমা ব্যবহার না করতে সতর্ক করল হুতিরা মারুবেনি করপোরেশনের সঙ্গে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা প্রধানমন্ত্রীর এইমাত্রঅন্যান্য মারুবেনি করপোরেশনের সঙ্গে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা প্রধানমন্ত্রীর শ্রীবরদীর সোমেশ্বরী নদীতে সেতু নেই, ১৫ হাজার মানুষের দুর্ভোগ এইমাত্রঅন্যান্য শ্রীবরদীর সোমেশ্বরী নদীতে সেতু নেই, ১৫ হাজার মানুষের দুর্ভোগ দেশে ফিরল সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রোটনের মরদেহ এইমাত্রঅন্যান্য দেশে ফিরল সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রোটনের মরদেহ
বাংলাদেশ

পানি খাওয়ার নাম করে শাম্মীর বাসায় ঢোকে অপু-রিয়াদ

প্রতিবেদক: স্টাফ রিপোর্টার, বাংলা ব্রিফ
পানি খাওয়ার নাম করে শাম্মীর বাসায় ঢোকে অপু-রিয়াদ

রাজধানীর গুলশানে আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) শাম্মী আহম্মেদের বাসায় চাঁদাবাজির অভিযোগে গুলশান থানার মামলায় বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের (বাগছাস) বহিষ্কৃত নেতা আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদ আদালতে নিজের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। এ সময় তিনি ঘটনার দিন সাবেক ওই এমপির বাসায় কে কে ও কোন উদ্দেশ্যে যায়, তার বর্ণনা দেন। আদালতকে তিনি বলেন, প্রথমে শাম্মীকে ধরতে পুলিশের সঙ্গে গেলেও তাকে বাসায় পাননি। পরে পানি খাওয়ার নাম করে বাসায় ঢোকেন রিয়াদ ও আরেক আসামি জানে আলম অপু। এরপর হুমকি দিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা নেন তারা। এরপর তা দুজনে সমান ভাগে ভাগ করে নেন। গতকাল রোববার রিমান্ড শেষে রিয়াদসহ চার আসামিকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহের আদালতে হাজির করা হয়। এরপর রিয়াদ স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। তারপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোখলেছুর রহমান তার জবানবন্দি রেকর্ড করতে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত অপুর জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

জবানবন্দিতে রিয়াদ বলেন, বিভিন্ন সময় ‘ফ্যাসিবাদী লোকজন’ গ্রেপ্তার করার ক্ষেত্রে পুলিশকে সহযোগিতা করেছেন তিনি। ঘটনার দিন গত ১৭ জুলাই রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সিনিয়র সহসভাপতি জাকির হোসেন মঞ্জুর ফোনের মাধ্যমে গুলশান জোনের ডিসির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখন রিয়াদ ডিসিকে জানান, আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক এবং সাবেক এমপি শাম্মী আহম্মেদ গুলশানের নিজ বাসায় অবস্থান করছেন। পরে ডিসি নিজে জানান যে, বিষয়টি তিনি গুলশান থানার ওসিকে অবগত করেছেন। এরপর রাত ২টার দিকে রিয়াদ, মঞ্জু, জানে আলম অপু, সাবাব হোসেন, আতিক শাহরিয়ার, সাদাকাউম সিয়াম, তানিম ওয়াহিদ ও আতিকের সঙ্গে আরও কয়েকজন থানায় যায়। তখন ওসি জানান, এত রাতে গুলশান সোসাইটিতে অভিযান চালানো যাবে না। ফজরের আজান পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

রিয়াদ জানান, পরে গুলশান থানার একটি টিম তাদের সঙ্গে দেওয়া হয়। এরপর তার (রিয়াদ) নেতৃত্বে সাবেক এমপি শাম্মী আহম্মেদের বাড়িতে যান। গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অভিযানের নেতৃত্ব দেন। তবে শাম্মীকে বাসায় না পেয়ে সকাল সাড়ে ৭টায় তারা ফিরে আসেন। পরে জানে আলম অপু রিয়াদকে বলেন, ওই বাসা থেকে তিনি শাম্মী আহম্মেদের এয়ারপড নিয়ে এসেছেন। পরে রিয়াদ ও অপু ওইদিন (১৭ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে এয়ারপড ফেরত দিতে ওই বাসায় যান। তারা এয়ারপড ফেরত দেওয়ার পর অপু পানি খাওয়ার কথা বলে ওই বাসার ভেতরে ঢোকেন। তখন অপু বাসায় থাকা শাম্মীর স্বামীকে বলেন, শাম্মী বাসায় আছেন। তারা তাকে পুলিশে দেবেন। তখন শাম্মীর স্বামী ভয় পেয়ে টাকা দিতে চান। তখন অপু ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন। কিন্তু এত টাকা বাসায় নেই বলে জানান শাম্মীর স্বামী। পরবর্তী সময়ে ১০ লাখ টাকা নিয়ে চলে আসেন এবং সমান ভাগে ভাগ করে নেন তারা।

রিয়াদ আরও জানান, পরে বাকি ৪০ লাখ টাকা নিতে ফের ২৫ জুলাই শাম্মী আহম্মেদের বাসায় যান রিয়াদসহ গ্রেপ্তার বাকিরা। ওইসময় পুলিশ এসে তাদের গ্রেপ্তার করে। পালিয়ে যান অপু। এ চাঁদাবাজির ঘটনায় অপু নিজের দোষ স্বীকার করেন গতকাল। জবানবন্দি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

এ ছাড়া গতকাল আলোচিত এই মামলার আরও তিন আসামিকে রিমান্ড শেষে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াদুর রহমানের আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। কারাগারে যাওয়া অন্যরা হলেন মো. ইব্রাহিম হোসেন, সাকাদাউন সিয়াম ও সাদমান সাদাব। তারাও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের নেতা ছিলেন। চাঁদাবাজির ঘটনার পর তাদের সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।