নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) ঠিকাদারের দুই কর্মীকে চোর সন্দেহে বেঁধে রেখে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এতে লোকমান হোসেন (৩৫) নামে এক কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অপর এক কর্মীকে জীবিত উদ্ধার করেছে এবং অভিযুক্ত একজনকে আটক করেছে।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাত সাড়ে ৭টার দিকে হাতিয়ার জাহাজমারা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চর হেয়ার গ্রামের আসাদনগরে দুলালের দোকানে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত লোকমান হোসেন শেরপুর সদর উপজেলার চকপাড়া গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। আহত মোস্তাফিজুর রহমান (২৮) শেরপুরের শ্রিবরদী উপজেলার পূর্ব জিনিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় বাসিন্দা আমির আল কাউসার ঢাকা পোস্টকে বলেন, জাহাজমারার আসাদনগরে ভাঙারি ব্যবসায়ী বাবুলের বাড়িতে বিদ্যুৎ অফিসের এক কর্মীর মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। অভিযোগ আছে, বাবুল বিদ্যুতের কিছু সরঞ্জাম চুরি করেছিলেন এবং সেই সরঞ্জাম উদ্ধারের জন্য সেখানে গেলে বাবুলসহ কয়েকজন মিলে তাদের মারধর করে। এই ঘটনার সঙ্গে প্রকৃতপক্ষে কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করা পুলিশের দায়িত্ব। আমরা জোর দাবি করছি—এই ঘটনার সঙ্গে যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত, তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হোক। একইসঙ্গে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান, যেন এ ঘটনায় নিরপরাধ কাউকে হয়রানি না করা হয়।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আজমল হুদা বলেন, নিহত লোকমান ও মোস্তাফিজ বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনের কাজ শেষ করার পর অপ্রয়োজনীয় প্রায় ১৬০ কেজি মালামাল বিক্রির জন্য স্থানীয় ভাঙারি ব্যবসায়ী দুলালের দোকানে যান। এ সময় স্থানীয় ইলেকট্রিশিয়ান তারেক আজিজ (৩৫) ও আরও কয়েকজন তাদের আটক করে চোর সন্দেহে দোকানের ভেতরে রশি দিয়ে বেঁধে রাখেন। একপর্যায়ে তারেক লোহার দণ্ড দিয়ে লোকমানের হাতে ও পিঠে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলে দুই শতাধিক লোক ভিড় করেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত সেখানে পৌঁছে দুজনকে উদ্ধার করে। তবে তখন লোকমান প্রচণ্ড ঘামতে থাকেন এবং অচেতন হয়ে পড়েন। বাঁধন খোলার কিছুক্ষণ পরই তার মৃত্যু হয়।



