বিনোদন জগতের কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম ও তার স্ত্রী রিয়া মনিকে ঘিরে আবার শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। সম্প্রতি এক রহস্যজনক ফেসবুক পোস্টে ইঙ্গিত মিলেছে, তাদের দাম্পত্য জীবনে আবারও ভাঙনের সুর।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন হিরো আলম। সেই পোস্টে তিনি লিখেছেন—রিয়া মনি নাকি আমাকে ডিভোর্স দেবে। ডিভোর্সটা দিলে একবারে সব বিষয়ে কথা বলব। আজকের সংবাদ সম্মেলনের সময়ও পরিবর্তন করা হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে হিরো আলমের সেই পোস্টে চোখ পড়ে তার স্ত্রী রিয়া মনির। এরপরই হিরো আলমের পোস্টের মন্তব্যের ঘরে রিয়া মনি লিখেছেন—যে বউ তোমাকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করতে পারে, তার ডিভোর্সের জন্য অপেক্ষা করছ কেন? তোমার তো তালাক দেওয়ার কথা তাকে?
সম্প্রতি রাজধানীর আফতাব নগরে হামলার শিকার হয়েছেন হিরো আলম। গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হিরো আলমের ওপর হামলার ঘটনায় নেটিজেনদের একাংশের সন্দেহের তীর এখনো রিয়া মনির দিকেই। অনেকে মন্তব্য করেছেন— রিয়াকে রিমান্ডে নিলে সব বেরিয়ে আসবে। এই হামলার নেপথ্যে রয়েছেন তার স্ত্রী রিয়া মনি।
হিরো আলম অনুসারীদের একাংশের দাবি— এ ঘটনার নেপথ্যে রয়েছেন তার স্ত্রী রিয়া মনি। তাদের ভাষ্য, কিছু দিন আগে যখন হাতিরঝিলের একটি বাসায় স্থানীয়রা ম্যাক্স অভিকে পিটুনি দেয়, তখন রিয়া মনি তাকে বাঁচাতে এগিয়ে যান। আর হিরো আলম যখন হামলার শিকার হলেন, তখন রিয়া মনি তাকে বাঁচাতে যাননি। এমনকি তার চোখে পানিও দেখা যায়নি। এতেই প্রমাণ হয় হিরো আলমের হামলার ঘটনায় কে দায়ী?
এদিকে গত ৫ অক্টোবর বাড্ডা থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেছেন হিরো আলম। সেখানে ম্যাক্স অভি, মিথিলাসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সেই মামলার আসামি হিসেবে ম্যাক্স অভিকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।
গত আাগস্টেও দাম্পত্য টানাপোড়েনের কারণে রিয়া মনি প্রকাশ্যে হিরো আলমকে ডিভোর্স দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এরপর সাময়িকভাবে সম্পর্কের বরফ গললেও আবারও শুরু হয়েছে সেই পুরোনো নাটক।
এখন দেখার বিষয় এ দম্পতির মধ্যে সত্যিই বিচ্ছেদ হয় কিনা, নাকি এটি কেবল আরেকটি সামাজিক মাধ্যমের বিতর্কের পর্ব হয়ে দাঁড়ায়!
হামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার সময় আফতাবনগর এলাকায় তিনটি মোটরসাইকেলে করে ৬ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি হিরো আলমকে কাশবনে নিয়ে যায়। সেখানে কাঠের লাঠি ও ধারালো লোহার স্কেল দিয়ে তার মাথা, হাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। তার মোবাইল ভাঙা হয় এবং হামলাকারীরা বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়।
ওই ঘটনার পর হিরো আলম জানান, তাকে মারধর করা হয়েছে। বেশ কয়েকজন এসে তাকে মারছিল আর বারবার বলছিল— তিনি কেন নির্বাচনে দাঁড়ান। এরপর ওই ব্যক্তিরা তাকে অন্ধকারে নিয়ে গিয়ে মারধর করে ও হত্যাচেষ্টা চালায়।



