মূল লেখায় যান
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১:১৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ঢাকায় তিন দিনব্যাপী ‘নলেজ ইন্টিগ্রেশন অ্যান্ড এডুকেশনাল লিডারশিপ’ নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন এইমাত্রঅন্যান্য ঢাকায় তিন দিনব্যাপী ‘নলেজ ইন্টিগ্রেশন অ্যান্ড এডুকেশনাল লিডারশিপ’ নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন কাজলের এক পরামর্শেই মুশকিল আসান, কী টিপস দিয়েছিলেন? এইমাত্রঅন্যান্য কাজলের এক পরামর্শেই মুশকিল আসান, কী টিপস দিয়েছিলেন? "বাংলাদেশে যা হয়েছে, ভারতেও সেটাই হোক!" এইমাত্রঅন্যান্য "বাংলাদেশে যা হয়েছে, ভারতেও সেটাই হোক!" দূর্গাপূজা উপলক্ষে টানা ৮ কার্যদিবস বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকবে এইমাত্রঅন্যান্য দূর্গাপূজা উপলক্ষে টানা ৮ কার্যদিবস বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকবে চুয়াডাঙ্গায় প্রতিবন্ধী সন্তানের বাবার মুখে হাসি ফোটালেন এমপি রাসেল, উপহার দিলেন নতুন পাখি ভ্যান এইমাত্রঅন্যান্য চুয়াডাঙ্গায় প্রতিবন্ধী সন্তানের বাবার মুখে হাসি ফোটালেন এমপি রাসেল, উপহার দিলেন নতুন পাখি ভ্যান শ্রেণিকক্ষে বখাটে ছাত্রর হাতে শিক্ষিকা লাঞ্ছিত এইমাত্রঅন্যান্য শ্রেণিকক্ষে বখাটে ছাত্রর হাতে শিক্ষিকা লাঞ্ছিত দূর্গাপূজা উপলক্ষে নাকুগাঁও স্থলবন্দর ৯ দিন বন্ধ থাকবে এইমাত্রঅন্যান্য দূর্গাপূজা উপলক্ষে নাকুগাঁও স্থলবন্দর ৯ দিন বন্ধ থাকবে লঘুচাপের প্রভাবে ৩ বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস এইমাত্রঅন্যান্য লঘুচাপের প্রভাবে ৩ বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস
আন্তর্জাতিক

এক ছাতার নিচে ৩ পরাশক্তি, কোন দিকে যাচ্ছে বিশ্ব?

প্রতিবেদক: স্টাফ রিপোর্টার, বাংলা ব্রিফ
এক ছাতার নিচে ৩ পরাশক্তি, কোন দিকে যাচ্ছে বিশ্ব?

বিশ্ব রাজনীতির অঙ্গনে নতুন করে তৈরি হচ্ছে এক অদ্ভুত সমীকরণ। আন্তর্জাতিক মঞ্চে যাদের নাম শুনলেই পশ্চিমা বিশ্ব বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বুকে কাঁপন ধরে, সেই তিন পরমাণু শক্তিধর দেশের নেতারা এবার এক ছাতার নিচে আসতে যাচ্ছেন। এরা হলেন—চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন।

দীর্ঘদিন ধরেই এই তিন দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান থাকলেও পশ্চিমাদের ওপর ক্ষোভ ও স্বার্থের কারণে এবার তারা একসঙ্গে শক্তি প্রদর্শনে নামছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাদের আসন্ন বৈঠক কেবল প্রতীকী সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং বিশ্ব রাজনীতির পালাবদলের ইঙ্গিত বহন করছে।

আগামী সপ্তাহে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ৮০ বছরপূর্তি উপলক্ষে চীন রাজধানী বেইজিংয়ের তিয়ানানমেন স্কয়ারে এক জাঁকজমকপূর্ণ সামরিক কুচকাওয়াজের আয়োজন করেছে। দিনটি ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ১৯৪৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জাপান টোকিওতে মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। সেই স্মরণীয় দিনে নিজেদের আধুনিক সমরাস্ত্র ও সামরিক শক্তি প্রদর্শন করবে চীন।

এ আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে।

এখানেই শেষ নয়, চীনের মিত্র রাষ্ট্রগুলোর শীর্ষ নেতারাও যোগ দেবেন এই প্যারেডে। উপস্থিত থাকবেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ানতো। পশ্চিমা শিবিরে সামান্য ভিন্ন সুর আনার মতো করে অনুষ্ঠানে থাকবেন স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো, যিনি একমাত্র ইউরোপীয় নেতা হিসেবে যোগ দিচ্ছেন।

পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির স্পিকার উ ওয়ান-শিকও থাকবেন অতিথিদের তালিকায়।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আয়োজন নিছক কোনো স্মারক দিবস নয়; বরং এর মধ্য দিয়ে চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া একত্রে বিশ্বকে নতুন বার্তা দিচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধ, তাইওয়ান ইস্যু এবং কোরীয় উপদ্বীপের উত্তেজনা মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা ব্লকের সঙ্গে তাদের বিরোধ এখন তুঙ্গে। ফলে এই তিন দেশের ঐক্য শুধু প্রতীকী নয়, বরং ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক রাজনীতির শক্তির ভারসাম্য পাল্টে দিতে পারে।

এখনো স্পষ্ট নয় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই কুচকাওয়াজে যোগ দেবেন কিনা। তবে তিনি উপস্থিত হলে তা হবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দূরত্ব ও চীনের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন ভারতের কূটনীতিকে নতুন মাত্রা দিতে পারে। সবমিলিয়ে বলা যায়, এক ছাতার নিচে তিন পরাশক্তির মিলন কেবল ইতিহাসের স্মৃতিচারণ নয়, বরং বিশ্ব রাজনীতির মোড় ঘোরানোর সম্ভাবনাময় সূচনা।