হরমুজ নিয়ে আলোচনায় নতুন মোড়, ইরানকে নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব
ওমানের মধ্যস্থতায় আলোচনায় থাকা একটি প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজের ওপর ইরানকে নিয়ন্ত্রণ দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন এক জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্র এবং দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তা।
বুধবার প্রকাশিত রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে এটি ইরানের জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক ছাড়গুলোর একটি হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছেন, চুক্তিটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি এবং বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতা বাকি রয়েছে।
এক আঞ্চলিক সূত্র রয়টার্সকে বলেন, “হরমুজে কোনো না কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ ইরানকে দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত ছাড় ইতোমধ্যেই দেওয়া হয়েছে।”
অন্য এক আঞ্চলিক কর্মকর্তা জানান, “নিয়ন্ত্রণ” বলতে কী বোঝাবে, তা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। উপসাগরীয় দেশগুলো চাইছে, জাহাজ পরিদর্শনের তদারকি আঞ্চলিক দেশগুলোর হাতে থাকুক এবং যেকোনো ফি স্বেচ্ছাভিত্তিক হোক।
এক জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনার টেবিলে থাকা খসড়া চুক্তিতে উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি রয়েছে। তবে উপসাগর থেকে বেরিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর ক্ষেত্রে ইরানের ভূমিকা কী হবে, সেটিই এখন প্রধান অমীমাংসিত বিষয়।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে মার্কিন কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন, জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে ইরানের নিয়ন্ত্রণ মেনে নেওয়া হবে না।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার রাতে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আলোচনা “ভালোভাবেই এগোচ্ছে” এবং হরমুজ প্রণালি “খুব শিগগিরই খুলে যাবে।” তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি তারা আবার পিছু হটে, তাহলে কঠোর আঘাত করা হবে।”
তবে রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্র ট্রাম্পের আশাবাদকে খাটো করে দেখিয়ে বলেন, “আলোচনা চলছে, কিন্তু ওমানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে—এ কথা বলার সময় এখনও আসেনি।”
আরেক ইরানি সূত্র বলেন, “মূল বিষয় লুকিয়ে আছে খুঁটিনাটিতে। ট্রাম্পের একটি টুইটও পুরো প্রক্রিয়া ভেঙে দিতে পারে।”
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান হরমুজ ব্যবহারকারী জাহাজের পণ্যের মূল্যের ৫ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত ফি আদায়ের প্রস্তাব দিয়েছে। ওমান প্রায় ৩ শতাংশ ফি নিয়ে আলোচনা করছে, আর যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের ফি আরোপের পক্ষপাতী নয়। স্বেচ্ছাভিত্তিক ফি আরোপের প্রস্তাবকে অচলাবস্থা নিরসনের একটি সম্ভাব্য পথ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিরা বুধবার লোহিত সাগরে একটি সৌদি পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজে হামলার দাবি করেছে। এ ঘটনার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা বেড়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পরও হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব কমেনি। ফলে সম্ভাব্য যেকোনো চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।
