আইন নিজের হাতে তুলে নেয় না যুবদল: নয়ন
রাজধানীর গুলিস্তানের জিপিও মোড়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রধান কার্যালয় ঘিরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অবস্থানের অভিযোগ ওঠার পর ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়ন।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা যাতে ঢাকার কোথাও মিছিল-মিটিং করতে না পারে, সে বিষয়ে ঢাকা মহানগর যুবদলের প্রতিটি ইউনিটকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নয়ন বলেন, সকালে তাদের ‘নেটওয়ার্কে’ আওয়ামী লীগের স্লোগান দিয়ে মিছিল করার বিষয়টি ধরা পড়ে। এরপর যুবদলের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন। পরে নেতৃত্ব পর্যায়ের নেতারা জানতে পারেন, জাসদ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জাসদের কার্যালয়ে জড়ো হয়ে সভা করছেন।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে আসার পর তারা নিশ্চিত করেন, কাউকে যেন কোনো ধরনের জুলুম, নির্যাতন বা নিপীড়নের শিকার হতে না হয়। এ কারণে উপস্থিত লোকজন যাতে কারও গায়ে হাত না দেয়, সে বিষয়ে সতর্ক ছিলেন তারা। নয়নের ভাষ্য, সেখানে অনেক বয়স্ক ব্যক্তি, নারী ও তরুণ ছিলেন। কোনো ধরনের হামলা হলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের থানায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় যুবদলের নেতাকর্মীরা এতে সহযোগিতা করছেন বলেও জানান নয়ন। তিনি বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করাই তাদের অবস্থান।
নয়ন আরও বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী দল এবং জাতীয়তাবাদী যুবদল আইন নিজের হাতে তুলে নেয় না।’ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে, সে জন্য তারা সহযোগিতা করছেন বলেও জানান তিনি।
এ সময় জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সমালোচনা করে নয়ন অভিযোগ করেন, জোটটির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে ককটেল ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত। এ বিষয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে না কেন, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
এর আগে জাসদ কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়েছেন—এমন অভিযোগে নয়ন ও পল্টন থানা যুবদলের নেতাকর্মীরা কার্যালয়টি ঘিরে রাখেন।
পরে ঘটনাস্থলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের ডিসি হারুন অর রশীদসহ বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য উপস্থিত হন। বিকেল ৪টার দিকে জাসদ কার্যালয় থেকে একে একে বেশ কয়েকজনকে হাতকড়া পরিয়ে বের করে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন জানান, জাসদের প্রধান কার্যালয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হয়েছিল এবং সেখানে অনেক বহিরাগত অবস্থান করছিলেন। কার্যালয়ের ভেতরে বৈঠক চলছিল বলেও সন্দেহ করা হয়। এ কারণে ক্রাইম ও গোয়েন্দা পুলিশের সমন্বয়ে অভিযান চালানো হচ্ছে।
তিনি জানান, এরই মধ্যে অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে হেফাজতে নিয়ে পল্টন থানায় নেওয়া হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদ ও পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
