মূল লেখায় যান
রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬, ৫:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ইউএনওদের সতর্ক করলেন মীর শাহে আলম এইমাত্রঅন্যান্য ইউএনওদের সতর্ক করলেন মীর শাহে আলম মূল্যস্ফীতি, ব্যাংক খাত ও কর্মসংস্থানই অর্থনীতির বড় চ্যালেঞ্জ: অর্থমন্ত্রী এইমাত্রঅন্যান্য মূল্যস্ফীতি, ব্যাংক খাত ও কর্মসংস্থানই অর্থনীতির বড় চ্যালেঞ্জ: অর্থমন্ত্রী চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে ৩ লঘুচাপের আভাস, আসছে ঘূর্ণিঝড় এইমাত্রঅন্যান্য চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে ৩ লঘুচাপের আভাস, আসছে ঘূর্ণিঝড় রেকর্ড পরিমাণ বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করছে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এইমাত্রঅন্যান্য রেকর্ড পরিমাণ বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করছে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র হাওরাঞ্চলে দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ করে সুষম উন্নয়নের দাবি এইমাত্রঅন্যান্য হাওরাঞ্চলে দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ করে সুষম উন্নয়নের দাবি ছয় বার গ্রেফতারের স্মৃতিতে ৩ অক্টোবর: আজকের এই দিনে ছাত্রদল নেতা রুমির দ্বিতীয় গ্রেফতার এইমাত্রঅন্যান্য ছয় বার গ্রেফতারের স্মৃতিতে ৩ অক্টোবর: আজকের এই দিনে ছাত্রদল নেতা রুমির দ্বিতীয় গ্রেফতার সরকারের সাফল্য তৃণমূলের সামনে তুলে ধরতে গণমাধ্যমকর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এইমাত্রঅন্যান্য সরকারের সাফল্য তৃণমূলের সামনে তুলে ধরতে গণমাধ্যমকর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে যশোরে বিশেষ অভিযানে গুলি টাকাসহ আটক ৩ এইমাত্রঅন্যান্য যশোরে বিশেষ অভিযানে গুলি টাকাসহ আটক ৩
অন্যান্য

ভুল অপরেশনে এক সপ্তাহে দুই রোগীর মৃত্যু, সুষ্ঠু তদন্তের দাবী

প্রতিবেদক:
ভুল অপরেশনে এক সপ্তাহে দুই রোগীর মৃত্যু, সুষ্ঠু তদন্তের দাবী

সাতক্ষীরার তালায় চিকিৎসক ডা.আব্দুর রহমান সজলকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর চিকিৎসা-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকে তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ভুল অপরেশনে দুই রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ,ক্ষোভ এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবী উঠেছে।

প্রথম রোগী সাধন বিশ্বাসের মৃত্যুর পর ভুল রোগ নির্ণয় ও অস্ত্রোপচারের অভিযোগ ওঠে। এর পরপরই স্বাস্থ্য বিভাগ ক্লিনিকটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়।

মৃত দুই রোগীর একজন খুলনার পাইকগাছা উপজেলার মাহামুদকাটি গ্রামের সাধন বিশ্বাস। অন্যজন তালার খানপুর এলাকার জবা দাশ। দুই পরিবারের অভিযোগ—চিকিৎসা নিতে গিয়ে তাদের স্বজনদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত দুজনেরই মৃত্যু হয়। তবে এসব অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ চিকিৎসা-তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করেন সচেতন মহল।

স্বজনদের ভাষ্য, পেটে ব্যথা নিয়ে সাধন বিশ্বাস তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে গেলে পরীক্ষার পর তাঁকে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়। এরপর ডা. আব্দুর রহমানের মাধ্যমে তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয় বলে স্বজনরা জানান।

অস্ত্রোপচারের পর সাধনের শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হয়ে আরও অবনতি ঘটে বলে পরিবারের অভিযোগ। পরবর্তীতে তাঁকে আবার ক্লিনিকে নেওয়া হয়। স্বজনদের অভিযোগ, সেখানে দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর অবস্থার আরও অবনতি হলে তাঁকে খুলনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। সেখানে তৃতীয় দফায় অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

সাধনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও স্থানীয়রা তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। পরদিন স্বাস্থ্য বিভাগ ক্লিনিকটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় বলে সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন জানিয়েছেন।

সাধন বিশ্বাসের মৃত্যুর এক সপ্তাহের ব্যবধানে মারা যান জবা দাশ। তিনি তালার খানপুর এলাকার অজয় সেনের স্ত্রী।

পরিবারের অভিযোগ, জয়া দাশের সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সময় অ্যানেসথেশিয়া দেওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি শুরু হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে খুলনা ও ঢাকায় নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৫ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

জয়া দাশের মৃত্যুর সঙ্গে ডা.আব্দুর রহমান সজলের চিকিৎসাগত ভূমিকা এবং অ্যানেসথেশিয়া প্রয়োগের বিষয়ে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে। সেগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

ডা. আব্দুর রহমান সজলকে ঘিরে স্থানীয়দের প্রশ্ন সাধন বিশ্বাসের ঘটনায় ডা:আব্দুর রহমানের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার এবং পরবর্তী সময়ে রোগীর অবস্থার অবনতির অভিযোগ সামনে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—অস্ত্রোপচারের আগে রোগ নির্ণয় কতটা নিশ্চিত ছিল, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছিল কি না এবং অস্ত্রোপচারের পর জটিলতা তৈরি হলে যথাযথ চিকিৎসা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না।

সাধনের ঘটনায় প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে স্বজনদের পক্ষ থেকে ভুল রোগ নির্ণয় ও অস্ত্রোপচারের অভিযোগ করা হয়েছে। এমনকি প্রথম অস্ত্রোপচারের পর পুনরায় অস্ত্রোপচারের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ডা. আব্দুর রহমান সজলের চিকিৎসা কার্যক্রম নিয়ে এর আগেও নানা অভিযোগ উঠেছে। শিশু রোগীর মৃত্যু এবং রোগীদের সঙ্গে আচরণ নিয়েও অভিযোগের কথা স্থানীয়ভাবে বলা হচ্ছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

অভিযোগের বিষয়ে ডা. আব্দুর রহমান সজলের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি অপারেশন করি না, দাঁড়িয়ে থাকি। যা করার ক্লিনিক মালিক করে।”

অন্যদিকে,সাধন বিশ্বাসের স্বজনদের দাবি, তাঁর প্রথম অস্ত্রোপচার ডা. আব্দুর রহমানই করেছিলেন। ফলে চিকিৎসকের বক্তব্য ও স্বজনদের বক্তব্যের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করার দাবি উঠেছে।

সচেতন মহলের দাবি,বিষয়টি শুধু অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সাধন বিশ্বাস ও জয়া দাশের চিকিৎসা-সংক্রান্ত সব নথি পর্যালোচনা, অস্ত্রোপচার ও অ্যানেসথেশিয়া রেকর্ড পরীক্ষা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতামত নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক।

কারণ দুটি মৃত্যুর ঘটনায় শুধু দুটি পরিবার নয়,পুরো এলাকার মানুষের মধ্যেই চিকিৎসাসেবা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সেই প্রশ্নের উত্তর এখন নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই পাওয়া সম্ভব।