সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডীয় লেখক অ্যান কারসন
এ বছরের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন কানাডীয় কবি, লেখক, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক অ্যান কারসন। কবিতা, কথাসাহিত্য, প্রবন্ধ ও গবেষণাধর্মী লেখার প্রচলিত সীমানা অতিক্রম করে স্বতন্ত্র সাহিত্যভাষা নির্মাণের জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিত।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সুইডিশ একাডেমি ৭৬ বছর বয়সী এই সাহিত্যিককে নোবেলজয়ী হিসেবে ঘোষণা করে। নোবেল কমিটি তাদের ঘোষণায় কারসনের সাহিত্যকর্মকে ‘সাহসী ও সৃজনশীল’ বলে উল্লেখ করেছে। তাদের মতে, ধ্রুপদি ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন ভাবনার সংলাপ সৃষ্টি করে তিনি সমকালীন সাহিত্যে অভিনব রূপ ও ভাষা যোগ করেছেন।
বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার একজন সাহিত্যিকের সামগ্রিক জীবনকর্মের স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হয়। এবার নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা, যা প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলার।
অ্যান কারসনের পুরো নাম অ্যান প্যাট্রিসিয়া কারসন। ১৯৫০ সালের ২১ জুন কানাডার অন্টারিও প্রদেশের টরন্টো শহরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। দীর্ঘ কর্মজীবনে কবিতা রচনা, অনুবাদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা—সব ক্ষেত্রেই সমানভাবে সক্রিয় ছিলেন।
প্রাচীন গ্রিক ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি তার গভীর অনুরাগ রয়েছে। তিন দশকেরও বেশি সময় তিনি ক্লাসিকস বিষয়ে অধ্যাপনা করেছেন। তার লেখায় গ্রিক পুরাণ, দর্শন এবং আধুনিক মানুষের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও আবেগের অনন্য মেলবন্ধন দেখা যায়।
কবিতা, প্রবন্ধ ও অনুবাদের প্রচলিত কাঠামো ভেঙে নিজস্ব শৈলী গড়ে তুলেছেন কারসন। ধ্রুপদি সাহিত্যকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা ও ব্যবহার করে সমকালীন সাহিত্যে ভিন্নধর্মী প্রকাশভঙ্গি তৈরি করাই তার লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে Eros the Bittersweet (১৯৮৬), Autobiography of Red (১৯৯৮), The Beauty of the Husband (২০০১) এবং Nox (২০১০)।
Eros the Bittersweet-এ তিনি প্রেম ও আকাঙ্ক্ষার জটিল অনুভূতি বিশ্লেষণ করেছেন। Autobiography of Red গ্রিক পুরাণভিত্তিক এক অভিনব উপন্যাস-কবিতা। আর Nox তার প্রয়াত ভাইকে কেন্দ্র করে রচিত এক ব্যতিক্রমী শোকগাথা, যা পাঠক ও সমালোচকদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে অ্যান কারসন এর আগে ম্যাকআর্থার ফেলোশিপ, টি. এস. এলিয়ট প্রাইজসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সম্মাননা পেয়েছেন। সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জনের মধ্য দিয়ে তার উদ্ভাবনী ও স্বতন্ত্র সাহিত্যচর্চা বিশ্বমঞ্চে আরও বড় স্বীকৃতি পেল।
