মূল লেখায় যান
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ৩:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ফ্যাসিবাদ কোনো দলের নাম নয়, এটি একটি ভাইরাস: জামায়াত আমির এইমাত্রঅন্যান্য ফ্যাসিবাদ কোনো দলের নাম নয়, এটি একটি ভাইরাস: জামায়াত আমির বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কবার্তা এইমাত্রঅন্যান্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কবার্তা আলীকদমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাইনর মেরামতে সীমাহীন দুর্নীতি, লাখ টাকা লোপাট এইমাত্রঅন্যান্য আলীকদমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাইনর মেরামতে সীমাহীন দুর্নীতি, লাখ টাকা লোপাট সেন্টমার্টিন রুটে শুরুতেই ভাড়া নৈরাজ্য! এইমাত্রঅন্যান্য সেন্টমার্টিন রুটে শুরুতেই ভাড়া নৈরাজ্য! শর্টকাটে টাকা আয়ের চিন্তা করলে ভালো আইনজীবী হওয়া যায় না: আইনমন্ত্রী এইমাত্রঅন্যান্য শর্টকাটে টাকা আয়ের চিন্তা করলে ভালো আইনজীবী হওয়া যায় না: আইনমন্ত্রী ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন নিয়ে নতুন নির্দেশনা বিআরটিএর এইমাত্রঅন্যান্য ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন নিয়ে নতুন নির্দেশনা বিআরটিএর জরুরি চিকিৎসার কথা বলে ডাক্তারকে ফ্ল্যাটে ডেকে অভিনেত্রীর কাণ্ড এইমাত্রঅন্যান্য জরুরি চিকিৎসার কথা বলে ডাক্তারকে ফ্ল্যাটে ডেকে অভিনেত্রীর কাণ্ড অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে আজিমপুরে সড়ক অবরোধ এইমাত্রঅন্যান্য অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে আজিমপুরে সড়ক অবরোধ
অন্যান্য

ফ্যাসিবাদ কোনো দলের নাম নয়, এটি একটি ভাইরাস: জামায়াত আমির

প্রতিবেদক:
ফ্যাসিবাদ কোনো দলের নাম নয়, এটি একটি ভাইরাস: জামায়াত আমির

ফ্যাসিবাদ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম নয়, বরং এটি একটি ভাইরাস বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সমাজের সর্বক্ষেত্রে ফ্যাসিবাদের লক্ষণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা না হলে দেশে বারবার বিপ্লব ফিরে আসবে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সমাজের সর্বক্ষেত্রে এই ভাইরাসের লক্ষণ এখন স্পষ্ট। জনগণের অধিকার নিশ্চিত না হলে দেশে বিপ্লব বারবার ফিরে আসবে। যারা জনগণের মনের ভাষা বুঝতে ব্যর্থ হবেন, তাদের পরিণতি ৭ নভেম্বরের মতোই হবে।’

৭ নভেম্বরের তাৎপর্য তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, এ দিবসের ইতিহাস ও গুরুত্ব শুনতে শুনতেই তাঁর জীবনের ৫৫ বছর কেটে গেছে। কিন্তু এ ঘটনা থেকে রাজনীতিবিদদের যে শিক্ষা নেওয়া উচিত ছিল, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা বলছে, তাঁরা সেই শিক্ষা নিতে পারেননি।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনার পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতায় আসার পর শেখ মুজিবুর রহমান সরকার বিভিন্ন ইসলামী সংগঠন নিষিদ্ধ করেছিল। অথচ ১৯৭০ সালের নির্বাচনে এসব সংগঠন সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিল।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তৎকালীন সরকার সেনাবাহিনীকে উপেক্ষা করে রক্ষীবাহিনীকে ব্যাপক ক্ষমতা ও অস্ত্র দিয়েছিল। তাঁর দাবি, রক্ষীবাহিনীর হাতে ৩৪ হাজার মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে অন্তত ১০ হাজার মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।

সিরাজ শিকদার হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, একজন মানুষকে বিনা বিচারে হত্যার পরও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তা বিচারব্যবস্থার প্রতি অবজ্ঞার প্রতিফলন।

৭ নভেম্বরের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের অবজ্ঞা ও অপমানের কারণে তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। সেই ক্ষোভ থেকেই মূলত সামরিক কর্মকর্তারা অভ্যুত্থানে জড়িয়েছিলেন। শুরুতে এতে সাধারণ জনগণের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নিজের স্মৃতিচারণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ওই সময় তিনি সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্র ছিলেন। ৭ নভেম্বরের পরদিন জুমার নামাজের জন্য কারফিউ শিথিল করা হলে তিনি মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি দেখেছিলেন। মসজিদ, বাড়ির ছাদ ও রাস্তায় শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বৃদ্ধদেরও উপস্থিতি ছিল বলে জানান তিনি।

স্বাধীনতার ইতিহাস প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, দেশের স্বাধীনতা অর্জনে যাঁর যেখানে অবদান রয়েছে, তাঁকে সেই স্বীকৃতি দিতে হবে। স্বাধীনতার ঘোষক, জাতীয় পতাকা উত্তোলনকারী এবং মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারীদের অবদান যথাযথভাবে আলোচনায় আসা উচিত।

তিনি বলেন, নিজের বা নিজের দলের নেতৃত্ব ছাড়া অন্য কারও অবদান স্বীকার না করার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ইতিহাসে প্রত্যেকের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। এতে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।