মূল লেখায় যান
সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬.৫৮ বিলিয়ন ডলার এইমাত্রঅন্যান্য দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬.৫৮ বিলিয়ন ডলার পরিকল্পিত ঢাকার স্বপ্ন থমকে, ড্যাপ বাস্তবায়নে রাজউককে আইনি নোটিশ এইমাত্রঅন্যান্য পরিকল্পিত ঢাকার স্বপ্ন থমকে, ড্যাপ বাস্তবায়নে রাজউককে আইনি নোটিশ ১৭ বছর পর রাজধানীতে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত এইমাত্রঅন্যান্য ১৭ বছর পর রাজধানীতে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত ২৯ মামলার আসামি ফরহাদ মন্ডল গ্রেপ্তার এইমাত্রঅন্যান্য ২৯ মামলার আসামি ফরহাদ মন্ডল গ্রেপ্তার সালথায় খাল খনন শেষে সরকারি কোষাগারে ৭৩ লাখ টাকা ফেরত দিলেন ইউএনও  এইমাত্রঅন্যান্য সালথায় খাল খনন শেষে সরকারি কোষাগারে ৭৩ লাখ টাকা ফেরত দিলেন ইউএনও  তদন্তে গিয়ে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক, থানার এসআই ক্লোজড এইমাত্রঅন্যান্য তদন্তে গিয়ে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক, থানার এসআই ক্লোজড বাঘারপাড়ায় ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি তামিম আটক এইমাত্রঅন্যান্য বাঘারপাড়ায় ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি তামিম আটক ডোপ টেস্টে মাদকসেবী শনাক্ত, ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বহিষ্কার এইমাত্রঅন্যান্য ডোপ টেস্টে মাদকসেবী শনাক্ত, ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বহিষ্কার
অন্যান্য

সাতক্ষীরায় ১৬ মাসে জব্দ ১২৬ কোটি টাকার চোরাচালানি পণ্য

প্রতিবেদক:
সাতক্ষীরায় ১৬ মাসে জব্দ ১২৬ কোটি টাকার চোরাচালানি পণ্য

প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে সীমান্তপথে আসা মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে সাতক্ষীরা ব্যাটেলিয়ন (৩৩ বিজিবি) চলমান অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে।

গত ১৬ মাসে সাতক্ষীরা সদর ও কলারোয়া সীমান্তে পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে ১২৬ কোটি ৬৬ লাখ ৩৬ হাজার ৮৫৬ টাকা মূল্যের বিভিন্ন চোরাচালানি পণ্য জব্দ করেছে এ বাহিনীর সদস্যরা। এর মধ্যে শুধু মাদকদ্রব্যের মূল্যই ৭৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

জব্দ করা এসব মাদকদ্রব্য রবিবার (২৮ জুন) সকালে সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে ধ্বংস করা হয়।

মাদক ধ্বংস কার্যক্রমে প্রধান অতিথি ছিলেন বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান। বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় বিপুল পরিমাণ মাদক বুলডোজার চালিয়ে ও আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

বিজিবি সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সাতক্ষীরা সীমান্তে মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়। এ সময় ৪৮ জন চোরাকারবারিকে আটক করা হয়। একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ মাদক, অবৈধ ওষুধ এবং অন্যান্য চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা সম্ভব হয়েছে।

ধ্বংস করা মাদকের মধ্যে ছিল ৩ হাজার ৭৯১ বোতল বিদেশি মদ, ৪ হাজার ৫২৪ বোতল ফেনসিডিল ও সমজাতীয় মাদক, ৪৭ হাজার ২৭০ পিস ইয়াবা, ৩৩ দশমিক ৪ কেজি গাঁজা, ৬৩ লাখ ১৩ হাজার ১২০ পিস অবৈধ ওষুধ, এলএসডি, ক্রিস্টাল মেথ (আইস), আফিম তৈরির বিভিন্ন রাসায়নিকসহ নানা ধরনের নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এসব মাদক সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশের আগেই বিভিন্ন অভিযানে জব্দ করা হয়েছিল।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রকেও ধ্বংস করে। তাই মাদক নির্মূলে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। সীমান্তে মাদক পাচার রোধে আমাদের সদস্যরা প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ভবিষ্যতেও এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, আমরা চাই বাংলাদেশ একটি মাদকমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে উঠুক। কিন্তু সীমান্তের ভৌগোলিক বাস্তবতা এবং সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের নানা কৌশলের কারণে সব সময় শতভাগ সফল হওয়া সম্ভব হয় না। আমাদের সদস্যরা মাঠপর্যায়ে মাদক পাচারকারীকে আটক করতে পারলেও অনেক ক্ষেত্রে মূল হোতা বা গডফাদারদের নাগাল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এরপরও আমরা গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়িয়ে তাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আটক ব্যক্তিদের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ বলেন, সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি দেশের তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করতে বিজিবি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রতিকূল পরিবেশ ও জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে বাহিনীর সদস্যরা যেভাবে দায়িত্ব পালন করছেন, তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। তিনি মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সব স্তরের মানুষকে একযোগে কাজ করার আহবান জানান।

অনুষ্ঠানে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি, র‍্যাব, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কাস্টমস বিভাগের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা মাদক ধ্বংস কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন।

সীমান্তবর্তী জেলা হিসেবে সাতক্ষীরা দীর্ঘদিন ধরেই মাদক ও চোরাচালানের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। সংশ্লিষ্টদের মতে, সীমান্তে বিজিবির ধারাবাহিক অভিযান ও নজরদারি আরও জোরদার হলে মাদক পাচার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। পাশাপাশি মাদকের চাহিদা কমাতে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধচক্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।