নেতানিয়াহুবিরোধী জোট সরকার গঠনের দাবিতে বিক্ষোভ
ইসরায়েলে ইহুদি ও আরবদের সমন্বয়ে নেতানিয়াহুবিরোধী জোট সরকার গঠনের দাবিতে তেল আবিবে প্রায় ২ হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। একই স্থানে ‘নির্বাচন চুরির’ অভিযোগ তুলে পাল্টা বিক্ষোভ করেছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সমর্থক ডানপন্থিরা। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এ দুই পক্ষের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।
দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের (TOI) সাংবাদিক নোয়াম লেহম্যান ও সংবাদকর্মীদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবারের নির্বাচনে নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলো সম্মিলিতভাবে পার্লামেন্টের ১২০ আসনের মধ্যে ৬৭টি আসন পেয়েছে। তবে আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনে বিরোধী জোটের ইহুদিপ্রধান দলগুলোর মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইহুদি-আরব জোট সরকারের দাবিতে বামপন্থি তৃণমূল সংগঠন ‘স্ট্যান্ডিং টুগেদার’-এর নেতৃত্বে বিক্ষোভকারীরা তেল আবিবের হাবিমা স্কয়ারে জড়ো হন। পরে তারা ইবনে গাভিরোল সড়ক হয়ে রাবিন স্কয়ার পর্যন্ত মিছিল করেন।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা ‘ইহুদি ও আরবরা শত্রু হতে অস্বীকার করে’ এবং ‘বর্ণবাদকে না, অংশীদারত্বকে হ্যাঁ’—এমন স্লোগান দেন। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘পরিবর্তনের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে’ এবং ‘সবার জন্য সমতা’।
মিছিলের বিভিন্ন অংশে হিব্রু ও আরবি ভাষায় স্লোগান দেওয়া হয়। আরবি ভাষায় বিক্ষোভকারীরা ‘শান্তি, স্বাধীনতা ও সামাজিক ন্যায়বিচার’ দাবি করেন।
অন্যদিকে, একই স্থানের পৃথক এলাকায় প্রায় ২০০ নেতানিয়াহু-সমর্থক ডানপন্থি বিক্ষোভ করেন। তাদের দাবি, নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করতে হবে। নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি অভিযোগ করেছে, বৈরী বিদেশি সরকারের সমর্থনে আরব দলগুলো নির্বাচন ‘চুরি’ করেছে।
পাল্টা বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা ‘ইহুদি রাষ্ট্র’ এবং ‘সন্ত্রাসীদের গাজায় পাঠাও, সরকারে নয়’—এমন স্লোগান দেন। কয়েকজন তরুণকে আরবদের উদ্দেশে বর্ণবাদী ও বিদ্বেষমূলক স্লোগান দিতেও দেখা যায়।
আউশভিৎস ও সোবিবোরে পাঠানোর হুমকি
দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার একপর্যায়ে ডানপন্থি এক বিক্ষোভকারী বিরোধী সমাবেশের অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নাৎসি গণহত্যার শিবির আউশভিৎস ও সোবিবোরের নাম উল্লেখ করে ভয়াবহ হুমকি দেন।
শিল্পী ইগাল শ্তাইমের প্রকাশ করা ভিডিওতে ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনাদের আবার সোবিবোর তৈরি করে দেব।’ তিনি বিরোধী বিক্ষোভকারীদের আউশভিৎস ও বিরকেনাউয়ে পাঠানোরও হুমকি দেন। ওয়ালা সংবাদমাধ্যমকে শ্তাইম জানিয়েছেন, ভিডিওতে ওই ব্যক্তির বক্তব্যের কেবল একটি অংশ উঠে এসেছে।
সরকার গঠন নিয়ে জটিল সমীকরণ
নির্বাচনে নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলো ৬৭টি আসন পেলেও আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া তাদের সরকার গঠন কঠিন। কারণ, আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট করতে অনাগ্রহী ইহুদিপ্রধান চারটি বিরোধী দলের আসনসংখ্যা মাত্র ৪৮। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটের আসনসংখ্যাও প্রয়োজনীয় ৬১টির কম।
নির্বাচনে আরবপ্রধান দলগুলো সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেয়েছে, যা তাদের সরকার গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে এসেছে। এর মধ্যে রা’আম ও জয়েন্ট লিস্ট উল্লেখযোগ্য।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনে বিদেশি অর্থায়নে আরব ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহিত করার অভিযোগ উঠলেও দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এ অভিযোগের তদন্তের পরিধি সীমিত। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই বলেও কমিশন জানিয়েছে।
এদিকে, ইসরায়েলের নতুন পার্লামেন্টের শপথ গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ নভেম্বর। তবে আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করা হবে কি না, তা নিয়ে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে এখনো মতপার্থক্য রয়েছে।
