মূল লেখায় যান
বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬, ১:৩১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করল ইরান এইমাত্রঅন্যান্য যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করল ইরান আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচ ও ভিএআর বিতর্ক: মুখ খুললেন ফিফা সভাপতি এইমাত্রঅন্যান্য আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচ ও ভিএআর বিতর্ক: মুখ খুললেন ফিফা সভাপতি পঞ্চগড়ে কৃষি ব্যাংকে সাংবাদিক লাঞ্চিতের ঘটনায় তদন্ত কমিটি এইমাত্রঅন্যান্য পঞ্চগড়ে কৃষি ব্যাংকে সাংবাদিক লাঞ্চিতের ঘটনায় তদন্ত কমিটি শীর্ষস্থান হারাল আর্জেন্টিনা এইমাত্রঅন্যান্য শীর্ষস্থান হারাল আর্জেন্টিনা সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হলেন কুড়িগ্রাম-১ আসনের এমপি এইমাত্রঅন্যান্য সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হলেন কুড়িগ্রাম-১ আসনের এমপি নতুন দায়িত্ব পেলেন ৭ মন্ত্রী এইমাত্রঅন্যান্য নতুন দায়িত্ব পেলেন ৭ মন্ত্রী বরগুনায় আন্তর্জাতিক কমিউনিটি প্যারামেডিক দিবস ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত এইমাত্রঅন্যান্য বরগুনায় আন্তর্জাতিক কমিউনিটি প্যারামেডিক দিবস ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকের আমানতকারীরা সুদসহ টাকা ফেরত পাবেন: অর্থমন্ত্রী এইমাত্রঅন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকের আমানতকারীরা সুদসহ টাকা ফেরত পাবেন: অর্থমন্ত্রী
অন্যান্য

প্রায় ৫ লাখ মুসলিমের দেশ আর্জেন্টিনা

প্রতিবেদক:
প্রায় ৫ লাখ মুসলিমের দেশ আর্জেন্টিনা

দক্ষিণ আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহ্ত্তম রাষ্ট্র আর্জেন্টিনা। ফুটবল ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত এই দেশটি মুসলিম উপস্থিতির দিক থেকেও লাতিন আমেরিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। দীর্ঘ অভিবাসনের ইতিহাস, ধর্মীয় পরিচয় রক্ষার সংগ্রাম এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে এখানকার মুসলিম সমাজ। সংখ্যায় সংখ্যালঘু হলেও আর্জেন্টিনার মুসলমানরা দেশটির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিসরে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছে। 

‘দ্য অ্যাসোসিয়েশন অব রিলিজিয়াস ডেটা আর্কাইভস’-এর তথ্য অনুযায়ী, আর্জেন্টিনায় প্রায় পাঁচ লাখ মুসলিম বসবাস করেন, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার এক শতাংশের অধিক। লাতিন আমেরিকায় মুসলিম সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অন্যতম বড় কেন্দ্র হিসেবে আর্জেন্টিনার পরিচিতি রয়েছে। 

ইতিহাসবিদদের মতে, পঞ্চদশ শতাব্দীতে স্প্যানিশ অভিযাত্রীদের সঙ্গে ‘মুরিশ-মরিস্কো’ মুসলিমদের মাধ্যমে এই অঞ্চলে ইসলামের প্রথম পরিচয় ঘটে। স্পেনে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার এসব মুসলিম নতুন জীবনের আশায় আর্জেন্টিনার বিভিন্ন অঞ্চলে বসতি গড়েন। পরে ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগ ও বিংশ শতাব্দীর শুরুতে সিরিয়া ও লেবানন থেকে বিপুলসংখ্যক আরব অভিবাসী এসে মুসলিম সমাজকে আরও সুসংগঠিত করে তোলেন।

আর্জেন্টিনায় ইসলামের প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশ শুরু হয় আশির দশকে। ১৯৮৩ সালে রাজধানী বুয়েনস আইরেসে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘আত-তাওহিদ’ মসজিদ, যা দেশটির প্রথম মসজিদ হিসেবে পরিচিত। ১৯৮৫ সালে নির্মিত ‘আল-আহমদ’ মসজিদ ছিল ইসলামিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত প্রথম ভবন। এরপর ১৯৯৬ সালে সৌদি আরবের অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত ‘কিং ফাহাদ ইসলামিক কালচারাল সেন্টার’ দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম ইসলামিক কমপ্লেক্স হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এতে মসজিদ, গ্রন্থাগার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পার্ক রয়েছে।

তবে বর্তমানে আর্জেন্টিনার মুসলিম সমাজ নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি। নতুন প্রজন্মের বড় অংশ স্প্যানিশ ভাষাভাষী হওয়ায় আরবি ভাষা ও ইসলামি জ্ঞানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক দুর্বল হচ্ছে। পাশাপাশি স্প্যানিশ ভাষায় নির্ভরযোগ্য ইসলামি সাহিত্য ও গবেষণাগ্রন্থের স্বল্পতা এবং গণমাধ্যমে ইসলাম সম্পর্কে ইতিবাচক উপস্থাপনার অভাব ধর্মীয় পরিচয় রক্ষাকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

তবু শত বছরের ইতিহাস, প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি এবং ধর্মীয় ঐতিহ্য আর্জেন্টিনার মুসলিম সমাজকে আজও শক্ত ভিত্তি জুগিয়ে চলেছে। সময়োপযোগী শিক্ষা, গবেষণা ও দাওয়াহ কার্যক্রম জোরদার করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যেও ইসলামের মূল্যবোধ ও ঐতিহ্য আরও দৃঢ়ভাবে বিকশিত হবে।