মাদ্রাসা ছাত্রীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ, ২ যুবকের বিরুদ্ধে মামলা
কুমিল্লার দেবিদ্বারে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে (১৫) প্রেমের প্রস্তাবে রাজি করাতে না পেরে অটোরিকশায় করে সড়ক থেকে তুলে নিয়ে নিজ ঘরে পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে দুই যুবকের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে দেবিদ্বার থানায় সবুজ ও ইসমাইল নামে দুই যুবককে অভিযুক্ত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন।
ঘটনাটি গত শনিবার (৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টায় দেবিদ্বার পৌর এলাকার বারেরা গ্রামে ঘটে। ঘটনার পর বিষয়টি গোপন রেখে, অভিযুক্ত দুই ধর্ষক পলাতক থেকে দালালদের মাধ্যমে ৩ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ভুক্তভোগীর দাদীর সাথে ঘটনার মীমাংসার উদ্যোগ নেয়।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে ভুক্তভোগীর বাবা-মা ঢাকা থেকে এলাকায় আসেন এবং বিষয়টি নিয়ে থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করেন।
এরপর মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি, কারণ তারা পলাতক ছিল। বুধবার দুপুরে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত অভিযুক্তরা হলেন দেবিদ্বার পৌর এলাকার বারেরা গ্রামের মো. রমিজ মিয়ার ছেলে মো. সবুজ মিয়া (২৪) এবং একই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মো. ইসমাইল (২৯)। উভয় ধর্ষক প্রবাস থেকে দেশে এসেছেন এবং তারা সম্পর্কে একে অপরের খালাতো ভাই।
ভুক্তভোগী ও তার ছোট বোন একই মাদ্রাসায় লেখাপড়া করেন। বারেরা দাখিল মহিলা মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আমির হোসেন জানান, ঘটনাটি যেদিন ঘটে সেদিন (শনিবার) মাদ্রাসা বন্ধ ছিল। এখন সাময়িক পরীক্ষা চলছে। রবিবার তিনি ভুক্তভোগীর দাদীকে ডেকে এনে তার নাতনীকে তার কাছে তুলে দিয়ে পরীক্ষা নিয়মিত চালিয়ে যেতে এবং ঘটনাটি আইনগত বা সামাজিকভাবে শেষ করে নিতে পরামর্শ দেন।
ভুক্তভোগীর বাবা জানান, গত রবিবার তার মেয়ে ফোনে বিষয়টি জানায়। তিনি ঢাকায় রাজমিস্ত্রীর কাজ করেন এবং তার স্ত্রীও তখন ঢাকায় ছিলেন। সংবাদ পেয়ে তারা গতকাল বাড়ি আসেন। তিনি অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন, যা দেখে সমাজ শিক্ষা পায়। এ ব্যাপারে তিনি তার মায়ের কোনো কথা বা বিষয় আমলে নেননি।
ভুক্তভোগী কিশোরী (১৫) জানায়, সবুজ তাকে প্রেমের প্রস্তাবে বিরক্ত করে আসছিল। সে রাজি না হওয়ায় ভয় দেখিয়ে গত শনিবার সকাল ৮টায় কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের বারেরা ফুলগাছ তলায় তাকে ডেকে নেয়। এরপর গলায় ছুরি ঠেকিয়ে এবং হুমকির মুখে সবুজ ও ইসমাইল তাকে অটোরিকশায় করে সবুজের বাড়িতে নিয়ে যায়। সবুজের স্ত্রী ডেলিভারির কারণে কুমিল্লায় ছিলেন। সেখানে সবুজ এবং ইসমাইল তাকে জোরপূর্বক পালাক্রমে শ্লীলতাহানি করে। এসময় ঘটনাটি কাউকে জানালে অ্যাসিড দিয়ে মুখ ঝলসে দেবে এবং তার বাবাকে হত্যা করার হুমকি দেয়। তখন ওই বাড়ির এক মহিলা ও একটি মেয়ে আসলে তাদের ধমকে তাড়িয়ে দেয়। দুজনই একটু আড়ালে গিয়ে কার সাথে যেন ফোনে কথা বলছিল — টাকার বিনিময়ে তাকে বিক্রি করে দেবে, দ্রুত টাকা নিয়ে চলে আসতে। তখন সে বুঝতে পারে সবুজ নারী পাচারকারী। সে তার হিজাব পরিবর্তন করে সবুজের স্ত্রীর হিজাব পরে কৌশলে ঘর থেকে বেরিয়ে আসে এবং বাড়িতে গিয়ে দাদীকে সব খুলে বলে।
ভুক্তভোগীর দাদী জানান, বারেরা এবং বড়আলমপুর গ্রামের কয়েকজন লোক বিষয়টি গোপন রাখতে বলে এবং ৩ লক্ষ টাকার বিনিময়ে শেষ করার প্রস্তাব দেয়।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখার পর অভিভাবকদের ডেকে এনে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এরপর ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট ২২ ধারায় ভুক্তভোগীর জবানবন্দি রেকর্ড করানো হয়। তিনি জানান, আসামীদের গ্রেফতারে দ্রুত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
