বগুড়ার শেরপুরে ‘ধর্ম শ্বশুর’ কর্তৃক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ, অভিযুক্ত গ্রেফতার
বগুড়ার শেরপুরে এক গৃহবধূকে (২১) ধর্ষণের অভিযোগে তাঁর ‘ধর্ম শ্বশুর’ মো. আশরাফ আলীকে (৪৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার (৮ জুলাই) গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় জনতা অভিযুক্তকে আটকে রেখে পুলিশে সোপর্দ করে। গ্রেফতারকৃত আশরাফ আলী শেরপুর উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের আন্দিকুমড়া এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে শেরপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী জীবিকার তাগিদে গত প্রায় তিন মাস ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তারা আন্দিকুমড়া গ্রামে মো. বাদশার বাড়িতে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতেন। একই ঘরের মাঝখানে পর্দা দিয়ে একপাশে ওই দম্পতি এবং অন্যপাশে আশরাফ আলী ও তাঁর স্ত্রী বসবাস করতেন। প্রতিবেশী ও একই ঘরে বসবাসের সুবাদে আশরাফ আলীর সঙ্গে তাদের পারিবারিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তিনি ওই গৃহবধূর ‘ধর্ম শ্বশুর’ হিসেবে পরিচিত পান।
গত ১ জুলাই আশরাফ আলীর স্ত্রী বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান। ঘর ফাঁকা থাকার এই সুযোগে গত ৫ জুলাই রাতে আশরাফ আলী ওই গৃহবধূর ঘরে ঢুকে তাঁকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হলে তারা ওই গৃহবধূকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তিনি তাঁর ওপর ঘটা পাশবিক নির্যাতনের কথা প্রকাশ করেন। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত আশরাফ আলী এলাকা থেকে পালানোর চেষ্টা করেন।
তবে গত ৭ জুলাই বিকেলে স্থানীয়রা কৌশলে তাঁকে ডেকে এনে আটকে রাখেন। সেখানে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে শেরপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আশরাফ আলীকে আটক করে এবং ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
শেরপুর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী নিজেই বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। আসামিকে গ্রেফতার দেখিয়ে বুধবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রক্রিয়া ও মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম বিধি মোতাবেক চলমান রয়েছে।
