মূল লেখায় যান
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বিএনপির মুখে জুলাই সনদ, অন্তরে আওয়ামী লীগ: হাসনাত এইমাত্রঅন্যান্য বিএনপির মুখে জুলাই সনদ, অন্তরে আওয়ামী লীগ: হাসনাত বুড়িচংয়ে কৃষিজমি রক্ষায় লাঙল-কোদাল হাতে কৃষকদের বিক্ষোভ এইমাত্রঅন্যান্য বুড়িচংয়ে কৃষিজমি রক্ষায় লাঙল-কোদাল হাতে কৃষকদের বিক্ষোভ ‘ফাটাকেষ্টর ভাব ধরতে গিয়ে পানি ঘোলা করে খায়’ এইমাত্রঅন্যান্য ‘ফাটাকেষ্টর ভাব ধরতে গিয়ে পানি ঘোলা করে খায়’ নিরাপত্তাঝুঁকি ও হামলার আশঙ্কায় অস্ত্র উঁচিয়েছিলাম: ইশরাক হোসেন এইমাত্রঅন্যান্য নিরাপত্তাঝুঁকি ও হামলার আশঙ্কায় অস্ত্র উঁচিয়েছিলাম: ইশরাক হোসেন কুমিল্লায় নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর মৃত্যু: স্বামীসহ পরিবারের সদস্যরা পলাতক এইমাত্রঅন্যান্য কুমিল্লায় নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর মৃত্যু: স্বামীসহ পরিবারের সদস্যরা পলাতক নম্বর ব্লক করায় দুই বান্ধবীকে ডেকে নিয়ে মারধর ও জুতাপেটার অভিযোগ এইমাত্রঅন্যান্য নম্বর ব্লক করায় দুই বান্ধবীকে ডেকে নিয়ে মারধর ও জুতাপেটার অভিযোগ সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় সরকারি আবাসন প্রকল্পের ঘর বিক্রির অভিযোগ এইমাত্রঅন্যান্য সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় সরকারি আবাসন প্রকল্পের ঘর বিক্রির অভিযোগ সীতাকুণ্ডে যুবদল কর্মী হত্যা: ২৪ ঘণ্টায় মূল আসামিসহ গ্রেপ্তার ৬ এইমাত্রঅন্যান্য সীতাকুণ্ডে যুবদল কর্মী হত্যা: ২৪ ঘণ্টায় মূল আসামিসহ গ্রেপ্তার ৬
বাংলাদেশ

সিলেট ওসমানী হাসপাতালের বারান্দায় দুই প্রসূতির সন্তান প্রসব, এক নবজাতকের মৃত্যু

প্রতিবেদক: স্টাফ রিপোর্টার, বাংলা ব্রিফ
সিলেট ওসমানী হাসপাতালের বারান্দায় দুই প্রসূতির সন্তান প্রসব, এক নবজাতকের মৃত্যু

সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি ওয়ার্ডের বারান্দায় দুই প্রসূতির সন্তান প্রসবের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বুধবার বিকেলে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের সামনের বারান্দায় এ ঘটনা ঘটে।

স্বজনদের ভাষ্য, হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় দুই প্রসূতির প্রসববেদনা ওঠে। তবে চিকিৎসক ও নার্সদের সহযোগিতা চেয়েও না পেয়ে স্বজনসহ অন্যদের সহযোগিতায় তাঁরা বারান্দায় সন্তানের জন্ম দেন। এর মধ্যে এক নবজাতকের মৃত্যু হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, হাসপাতালের ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত রোগী ভর্তি থাকায় তাঁরা শয্যা পাননি। দুই প্রসূতি জরুরি অবস্থায় গিয়েছিলেন। ভিড় থাকায় ভেতরে জরুরি অবস্থার বিষয়টি তাঁরা জানাতে পারেননি। এক প্রসূতি সময়ের আগেই সন্তান জন্ম দেওয়ায় নবজাতকটিকে বাঁচানো যায়নি। তবে মা সুস্থ আছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের চাটিবহর গ্রামের শাহিন মিয়ার স্ত্রী সুমি বেগম (১৯) ও গোলাপগঞ্জের দক্ষিণ রামপাশা গ্রামের রতন চন্দ্র দাসের স্ত্রী সুপ্রিতা রানী দাস (২৫) বুধবার হাসপাতালে ভর্তি হন। তাঁদের মধ্যে সুমি বেগমের সন্তান জন্মের পরই মারা যায়। দুই প্রসূতি এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সুমি বেগমের মা রাজিয়া বেগম জানান, মেয়েকে বুধবার বেলা তিনটার দিকে হাসপাতালে ভর্তি করান। এরপর প্রসূতি ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়ার পর জায়গা পাননি। এ সময় মেয়ের প্রসববেদনা উঠলে ওয়ার্ডের ভেতরে যেতে চাইলেও যেতে দেওয়া হয়নি। একপর্যায়ে উপস্থিত অন্যরা ভেতরে নার্সদের খবর দিলেও বিষয়টি আমলে নেওয়া হয়নি। পরে হাসপাতালের বারান্দাতেই তিনিসহ অন্যদের সাহায্যে নবজাতকের জন্ম হয়। সন্তান প্রসবের পর ওয়ার্ডের নার্সরা গিয়েছিলেন। পরে তাঁর মেয়েকে ওয়ার্ডের ভেতরে নেওয়া হয়।

রাজিয়া বেগম আরও জানান, তাঁর মেয়ে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় সন্তান প্রসব করেন। সময়ের আগে সন্তান প্রসব ও হাসপাতালের অসহযোগিতায় তাঁর মেয়ের বাচ্চাটি মারা গেছে। তার মেয়ের সন্তান প্রসব হওয়ার প্রায় ১০ মিনিট পর আরও এক প্রসূতির প্রসববেদনা ওঠে। তিনিও বারান্দায় একইভাবে সন্তান প্রসব করেন।

জানতে চাইলে হাসপাতালের উপপরিচালক সৌমিত্র চক্রবর্তী প্রথম আলোকে বলেন, হাসপাতালের ধারণক্ষমতা ৯০০। চিকিৎসাধীন আছেন প্রায় দুই হাজার ৮০০ রোগী। হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডে ২৪ ঘণ্টায় রোগী ভর্তি করা হয়। একসঙ্গে ২৫ থেকে ৩০ জন প্রসূতি ভর্তির জন্য চলে আসেন। ভর্তির কক্ষে শয্যা আছে পাঁচটি। সেখানে প্রসূতিদের পরীক্ষা করার পর ভর্তি করা হয়। প্রসূতিদের অবস্থা দেখেই প্রসব করানোর জন্য শয্যা দেওয়া হয়।

সৌমিত্র চক্রবর্তী বলেন, ‘ওই দুই প্রসূতি জরুরি অবস্থায় এসেছিলেন। সেখানে ভিড় থাকায় ভেতরে জরুরি অবস্থার বিষয়টি তাঁরা জানাতে পারেননি। এ ছাড়া যে কক্ষে পরীক্ষা করা হয়, সেটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় বাইরের শব্দ ভেতরে যায়নি। চিকিৎসক ও নার্সরা সেবা দেননি কিংবা সেবা দেওয়ার মনোভাব নেই—এমনটি না। ৯০০ শয্যার হাসপাতালে তিন হাজারের কাছাকাছি রোগীকে সেবা দেওয়া হচ্ছে, বিষয়টি বুঝতে হবে।’ প্রসূতি দুই নারী সুস্থ আছেন জানিয়ে তিনি বলেন, এক প্রসূতি সময়ের আগেই সন্তান জন্ম দিয়েছেন। এ জন্য শিশুটিকে বাঁচানো যায়নি। মা সুস্থ আছেন। অন্য শিশু ও মা ভালো আছেন। আজ-কালকের মধ্যে তাঁদের ছাড়পত্র দেওয়া হবে।