ঈদগাহ মাঠের উন্নয়নে ৬ কোটি টাকার প্রকল্প, পরিদর্শনে ইউএনও
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনে ৬ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব কামরুল হাসান মারুফ।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সদর উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু সাঈদকে সঙ্গে নিয়ে তিনি শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ পরিদর্শন করেন। এ সময় মাঠের বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখার পাশাপাশি মসজিদের মুসল্লি ও স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করে উন্নয়ন পরিকল্পনা বিষয়ে তাদের মতামত গ্রহণ করেন।
পরিদর্শন শেষে ইউএনও কামরুল হাসান মারুফ বলেন, গত ঈদুল আজহার জামাতে কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব ও কুলিয়ারচর) আসনের সংসদ সদস্য, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মো: শরিফুল আলম এবং কিশোরগঞ্জ-১ ( সদর- হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মো: মাজহারুল ইসলাম শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। সেই ধারাবাহিকতায় এলজিইডির মাধ্যমে ৬ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।
তিনি জানান, প্রকল্পের আওতায় মাঠে নতুন করে মাটি ভরাট, পানি নিষ্কাশনের জন্য আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ, বাউন্ডারি ওয়াল পুনর্নির্মাণ, একটি প্রধান গেট ও আরও দুটি ছোট গেট নির্মাণ, পুকুরে অজুর জন্য প্রশস্ত ঘাট নির্মাণ, আধুনিক ওজুখানা ও ওয়াশরুম নির্মাণ এবং সংলগ্ন মসজিদকে দুই তলা থেকে তিন তলায় উন্নীত করা হবে।
আগামী ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কিশোরগঞ্জ সফরের কর্মসূচি রয়েছে। সফরকালে তিনি শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ পরিদর্শন করতে পারেন। সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখে মাঠের পরিবেশ ও অবকাঠামো আরও সুন্দর ও উপযোগী করে তুলতে উন্নয়নকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
ইউএনও আরও বলেন, আগামী ঈদুল ফিতরের আগেই মাঠ ভরাট, বাউন্ডারি ওয়াল পুর্ননির্মান ও পুকুরের ঘাট নির্মাণসহ প্রথম ধাপের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রকল্পের অন্যান্য কাজও বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি আরো বলেন, আমি শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে নিয়মিত উন্নয়ন কাজ তদারকি করছি। আজ মুসল্লিদের মতামত নিয়েছি, যাতে তাদের প্রয়োজন ও পরামর্শ অনুযায়ী প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করা যায়।
কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসী আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের ঐতিহাসিক মর্যাদা, সৌন্দর্য ও সুযোগ-সুবিধা আরও বৃদ্ধি পাবে। এতে ঈদের জামাতে অংশ নিতে আসা লাখো মুসল্লির জন্য আরও নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক পরিবেশ নিশ্চিত হবে।
