তিন দেশ সফরে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত কূটনৈতিক সূচি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগামী অক্টোবর ও নভেম্বরে জাপান, তুরস্ক ও সৌদি আরব সফরের প্রস্তুতি চলছে। এর মধ্যে জাপান ও সৌদি আরবে দ্বিপক্ষীয় সফর এবং তুরস্কে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ৩১তম সম্মেলন (কপ৩১) উপলক্ষে যাওয়ার কথা রয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) টোকিও, রিয়াদ ও আঙ্কারায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক সূত্রগুলো এ তথ্য জানিয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে জাপান সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর নভেম্বরের প্রথম দিকে তুরস্ক এবং নভেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে সৌদি আরব সফরের প্রাথমিক প্রস্তুতি চলছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে যোগাযোগ শুরু করেছেন।
জাপান সফর
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে তিন থেকে চার দিনের টোকিও সফর করতে পারেন তারেক রহমান। এ সফর আয়োজন নিয়ে সম্প্রতি ঢাকা ও টোকিওর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।
সফরে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, ব্যবসায়ীদের সম্মেলন এবং বাংলাদেশ থেকে জাপানে জনশক্তি রপ্তানির অগ্রগতি পর্যালোচনার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।
এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জাপান সফর করেন। ওই সফরে বিনিয়োগ, জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে সাতটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। পাশাপাশি পাঁচ বছরে জাপানে এক লাখ বাংলাদেশি দক্ষ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
কপ৩১-এ অংশ নিতে তুরস্কে
নভেম্বরের প্রথম দিকে তুরস্ক সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তুরস্কের আনাতোলিয়ায় ৯ থেকে ২০ নভেম্বর কপ৩১ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ১১ ও ১২ নভেম্বর হবে শীর্ষ নেতাদের বৈঠক।
আঙ্কারার কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, শীর্ষ নেতাদের ওই বৈঠকে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী তুরস্ক সফর করবেন।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য কপ৩১ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সম্মেলনে জলবায়ু অর্থায়ন, ক্ষতিপূরণ ও পূর্বঘোষিত জলবায়ু লক্ষ্য বাস্তবায়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।
নভেম্বরে সৌদি আরব সফর
সৌদি যুবরাজ ও দেশটির প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের আমন্ত্রণে নভেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে রিয়াদ সফরে যেতে পারেন তারেক রহমান। সফর আয়োজন নিয়ে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে ঢাকার কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।
সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে জনশক্তি রপ্তানির পাশাপাশি বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের দিকে আরও বিস্তৃত করার বিষয়টি সাম্প্রতিক সময়ে গুরুত্ব পেয়েছে।
গত আগস্টে সৌদি আরবের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এল-খেরেজি ঢাকায় এক বৈঠকে মৎস্য, খাদ্য, জ্বালানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিনিয়োগের আগ্রহের কথা জানান।
বর্তমানে ২৮ লাখের বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক সৌদি আরবে কর্মরত রয়েছেন। পরিকল্পিত সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, জ্বালানি আমদানি, বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা ইস্যুতেও সৌদি আরবের সমর্থন অব্যাহত রাখার বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে।
সূত্র: প্র থম আলো
