মূল লেখায় যান
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:০৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
অন্যান্য

দেহব্যবসা করে পড়াশোনা, ৭টি আন্তর্জাতিক খেতাব জয়

প্রতিবেদক:
দেহব্যবসা করে পড়াশোনা, ৭টি আন্তর্জাতিক খেতাব জয়

ভারতের প্রথম ট্রান্সজেন্ডার সুন্দরী হিসেবে পরিচিত নাজ জোশী। দেশের বাইরে সাতটি আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে একাধিক খেতাবও জিতেছেন তিনি। তবে এত সাফল্যের পরও এখনো স্থায়ী আয়ের কোনো ব্যবস্থা হয়নি তার।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশন টেকনোলজি (এনআইএফটি) থেকে পোশাক ডিজাইনিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন নাজ। নিজের ব্যাচে শীর্ষস্থানও অর্জন করেন তিনি। তবে পড়াশোনার খরচ চালাতে জীবনের বিভিন্ন সময়ে নানা কাজ করতে হয়েছে তাকে। এমনকি বার নৃত্যশিল্পী হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি যৌনকর্মী হিসেবেও কাজ করেছেন বলে জানিয়েছেন নাজ।

শৈশবেই পরিবারের কাছ থেকে দূরে সরে যেতে হয় তাকে। মেয়েলি আচরণের কারণে বাবা-মা তাকে নিয়ে অস্বস্তিতে থাকতেন। পরে প্রতিবেশীদের সমালোচনা এড়াতে তাকে মুম্বাইয়ে এক আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানেই বেড়ে ওঠেন নাজ।

নিজের পড়াশোনা ও জীবনযাপনের খরচ বরাবরই নিজেই বহন করেছেন তিনি। ১২ বছর বয়স থেকে বারে নাচের কাজ শুরু করেন নাজ। মেয়েদের পোশাক পরা ও মেকআপ করার সুযোগ পাওয়ায় কাজটি তার কাছে অস্বস্তিকর মনে হতো না বলে জানান তিনি।

কাজ করে অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি পড়াশোনাও চালিয়ে যান নাজ। পরে আইএমটি থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন। নিজের লিঙ্গ পরিবর্তন-সংক্রান্ত চিকিৎসার খরচও নিজেই বহন করেছেন তিনি।

প্রথমদিকে মডেলিং করার পরিকল্পনা ছিল না নাজের। তার স্বপ্ন ছিল একজন ফ্যাশন ডিজাইনার হওয়ার। ২০১২ সালে মডেলিং এজেন্সিতে কাজ শুরু করেন তিনি। এরপর ২০১৪ সালে প্রথমবারের মতো সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।

নাজের সাম্প্রতিক সাফল্য ‘এমপ্রেস আর্থ’ খেতাব জয়। গত মে মাসে ভারতের হয়ে এই আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ১ জুন বিজয়ী হন তিনি। ওই প্রতিযোগিতায় একমাত্র ট্রান্সজেন্ডার প্রতিযোগী ছিলেন নাজ।

এর আগে ২০২০ সালে ‘মিস ইউনিভার্স ডাইভারসিটি’ খেতাব জেতেন তিনি। ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত টানা তিনবার ‘মিস ওয়ার্ল্ড ডাইভারসিটি’ খেতাব অর্জন করেন নাজ। এছাড়া ‘মিস রিপাবলিক ইন্টারন্যাশনাল’ সৌন্দর্য রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।

সাতটি আন্তর্জাতিক খেতাব অর্জন করলেও ব্যক্তিগত জীবনে এখনো আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন নাজ। ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে ব্যাচে শীর্ষস্থান অর্জন এবং এমবিএ ডিগ্রি থাকার পরও বহু চেষ্টা করেও স্থায়ী চাকরি পাননি তিনি। ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্যের পাশাপাশি এখনো স্থায়ী আয়ের একটি পথ খুঁজছেন নাজ জোশী।