মূল লেখায় যান
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১:৫৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
অন্যান্য

জার্মানিতে ৬ লাখ ৫০ হাজার চাকরি, সুযোগ পাবেন যেসব দক্ষ কর্মী

প্রতিবেদক:
জার্মানিতে ৬ লাখ ৫০ হাজার চাকরি, সুযোগ পাবেন যেসব দক্ষ কর্মী

দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য বড় ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে জার্মানিতে। দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার শূন্য পদ রয়েছে। ফলে ক্যারিয়ার গড়ার পাশাপাশি জার্মানিতে দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের পরিকল্পনা করছেন—এমন দক্ষ কর্মীদের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।

সম্প্রতি দুবাইয়ের দুসিত থানি হোটেলে আয়োজিত ‘গালফ নিউজ লেভেলআপ’ সম্মেলনের এক ফায়ারসাইড চ্যাটে জার্মানির শ্রমবাজার ও অভিবাসনের সুযোগ নিয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন ওয়াই-অ্যাক্সিসের ডিরেক্টর ক্লিন্ট খান।

তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) বর্তমানে প্রায় ৩০ লাখ শূন্য পদ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার পদই জার্মানিতে। অর্থাৎ ইউরোপীয় ইউনিয়নের মোট চাহিদার প্রায় এক-চতুর্থাংশ জার্মানিতে।

জার্মানিতে যাওয়ার সুযোগ ‘অপরচুনিটি কার্ডে’

দক্ষ পেশাজীবীদের জার্মানিতে যাওয়ার অন্যতম পথ হলো ‘অপরচুনিটি কার্ড’ (Opportunity Card)। এটি মূলত চাকরি খোঁজার জন্য একটি রেসিডেন্স পারমিট। এর মাধ্যমে ইইউ-বহির্ভূত দেশের যোগ্য নাগরিকরা আগে থেকে চাকরির চুক্তি না থাকলেও জার্মানিতে গিয়ে চাকরি খুঁজতে পারেন।

এই কার্ডের মাধ্যমে সাধারণত সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত জার্মানিতে অবস্থান করে চাকরি খোঁজার সুযোগ পাওয়া যায়।

ক্লিন্ট খানের ভাষ্য অনুযায়ী, অপরচুনিটি কার্ডের মাধ্যমে জার্মানিতে গিয়ে চাকরি খোঁজার পাশাপাশি শুরুতে খণ্ডকালীন কাজও করা যায়। পরে উপযুক্ত পূর্ণকালীন চাকরি পাওয়া গেলে এবং নিয়োগকর্তার প্রয়োজনীয় সহায়তা থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মী অন্য ধরনের ওয়ার্ক পারমিটে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।

কারা আবেদন করতে পারবেন?

অপরচুনিটি কার্ডের জন্য যোগ্য হওয়ার প্রধান দুটি পথ রয়েছে। একজন আবেদনকারী জার্মানিতে স্বীকৃত বিদেশি শিক্ষাগত বা পেশাগত যোগ্যতা থাকলে নির্দিষ্ট শর্তে আবেদন করতে পারেন। অন্যদিকে, পয়েন্টভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমেও যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ রয়েছে।

পয়েন্ট পদ্ধতিতে আবেদনকারীর সাধারণত একটি স্বীকৃত একাডেমিক বা ভোকেশনাল যোগ্যতা, নিজের জীবনযাত্রার খরচ বহনের মতো পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্য এবং নির্ধারিত সংখ্যক পয়েন্ট প্রয়োজন হয়।

এই পয়েন্ট নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিবেচনায় আসতে পারে—পেশাগত বা শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, বয়স, ভাষাগত দক্ষতা, জার্মানির সঙ্গে পূর্ববর্তী সম্পর্ক বা অভিজ্ঞতা, অন্যান্য নির্ধারিত যোগ্যতা।

তবে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট যোগ্যতা ও বর্তমান অভিবাসন বিধি যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

চাকরি পেলে স্থায়ী হওয়ার আরেক পথ ব্লু কার্ড

উপযুক্ত চাকরির অফার পাওয়া উচ্চশিক্ষিত দক্ষ কর্মীদের জন্য জার্মানিতে ইইউ ব্লু কার্ড (EU Blue Card) আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। নির্দিষ্ট বেতনসীমা পূরণ করে এমন যোগ্য চাকরির অফার থাকলে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা এই কার্ডের জন্য বিবেচিত হতে পারেন।

ক্লিন্ট খান বলেন, ব্লু কার্ডের মাধ্যমে জার্মানিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের পথও তৈরি হতে পারে। বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে ব্লু কার্ডধারীরা ২৭ মাস পর স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। আর জার্মান ভাষায় B1 স্তরের দক্ষতা থাকলে নির্দিষ্ট শর্তে সময়টি কমে ২১ মাস হতে পারে।

জার্মানির বিপুল সংখ্যক শূন্য পদ, অপরচুনিটি কার্ডের মাধ্যমে চাকরি খোঁজার সুযোগ এবং ব্লু কার্ডের মতো পথ—সব মিলিয়ে দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য দেশটির শ্রমবাজার আন্তর্জাতিক কর্মীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তবে আবেদনকারীদের অবশ্যই নিজ নিজ শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, অভিজ্ঞতা, ভাষা দক্ষতা, আর্থিক সামর্থ্য এবং সংশ্লিষ্ট ভিসা বা রেসিডেন্স পারমিটের সর্বশেষ শর্ত যাচাই করে আবেদন করা উচিত।

সূত্র: গালফ নিউজ