যশোরে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় মামলা: ৫৫ জনের বিরুদ্ধে, আটক ১৭
যশোর শহরের মাইকপট্টি মোড়ে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ মিছিল ও সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলায় ৫৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) পুরাতন কসবা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই কামরুজ্জামান বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এ মামলা করেছেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ১৭ জনকে আটক করেছে।
মামলার আসামিরা হলেন—যুবলীগ নেতা শেখ শহীদ, ইমরান হোসেন খান বাদল, মোহাম্মদ আলী, বিপ্লব হোসেন, তানভীর, রফিকুল ইসলাম রহমত, সানু, রনি, জাফর, রসুল, পারভেজ, পারভেজ (২), আবির, সাজ্জাদুল ইসলাম রকি ওরফে সোহাগ, তৌহিদুর রহমান শাকিল, মিলন শাহ, সরোয়ার হোসেন সারু, জাহাঙ্গীর মৌরি, সোহাগ হোসেন, আবু তাহের, মহিদুল বিশ্বাস, আব্দার রহমান, শহিদুল গাজী, সৌরভ হোসেন অভি, মুকুল, সাজু, পাপিয়া, সুজন ইসলাম সাজু, পঙ্খি, মামুন, বিপ্লব বকশি, পিকুল, শহিদ, নিশান, জাহিদ হাসান টুটুল, অন্তর দে শুভ, জিয়াউর রহমান জিয়া, আলাউদ্দিন, আসাদুজ্জামান, ইনামুল, ইসমাইল হোসেন, রিমন, রোমান, সাইফুজ্জামান উচ্ছ্বাস, রেজওয়ান আলী, তারেক আজিজ, আল আমিন, রাব্বি, নুর আলম, শানু, কামরুজ্জামান, মকবুল হোসেন, শেখ শাহাজাদা সেলিম হৃদয়, আক্তারুজ্জামান শিবলী এবং জাহিদ হাসান সানি।
আটককৃতরা হলেন—শেখ শহীদ, ইমরান হোসেন বাদল, মোহাম্মদ আলী, বিপ্লব হোসেন, তানভীর, রফিকুল ইসলাম, রকি, সোহাগ, তারেক আজিজ, নুর আলম, শানু, কামরুজ্জামান, মকবুল হোসেন, হৃদয়, সুমন শেখ ও সেলিম।
মামলার অভিযোগে বাদী উল্লেখ করেন, ১ নভেম্বর ভোর ৫টা ২০ মিনিটে দড়াটানা মোড়ে অবস্থানকালে গোপন সংবাদের মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের প্রায় ২০০ থেকে ২২০ জন নেতাকর্মী লালদীঘিরপাড়ের মাইকপট্টি মোড়ে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করছেন। এ সময় তাঁরা বর্তমান সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যান। অভিযোগে আরও বলা হয়, বিক্ষোভকারীরা জনসাধারণের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে বর্তমান সরকারকে উৎখাত এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড সংঘটনের উদ্দেশ্যে এ কর্মসূচি পালন করেন।
এ বিষয়ে যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অনুসারীরা খুব ভোরে মিছিলটি করেছেন। পুলিশ বিষয়টি আমলে নিয়ে মামলা করেছে এবং ১৭ জনকে আটক করেছে। এছাড়া যশোরের নয়টি থানায় নাশকতা অভিযোগে মোট ৪১ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে কোতোয়ালি থানায় আটক ১৭ জনের মধ্যে ৭ জন সরাসরি মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন।
অন্যান্য থানার মধ্যে চৌগাছা থানায় ২ জন, মণিরামপুর থানায় ৩ জন, শার্শা থানায় ২ জন, অভয়নগর থানায় ৪ জন, কেশবপুর থানায় ৩ জন, বাঘারপাড়া থানায় ৪ জন, বেনাপোল পোর্ট থানায় ৪ জন এবং ঝিকরগাছা থানায় ২ জনকে আটক করা হয়েছে।
