মূল লেখায় যান
শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬, ১:৫৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ইরান সমর্থিত হুথিদের হামলায় ইয়েমেনে ৫৮ সেনা নিহত এইমাত্রঅন্যান্য ইরান সমর্থিত হুথিদের হামলায় ইয়েমেনে ৫৮ সেনা নিহত মব সাজিয়ে আমার স্বামীর ওপর হামলা, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি- স্ত্রী তারিন আক্তারের এইমাত্রঅন্যান্য মব সাজিয়ে আমার স্বামীর ওপর হামলা, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি- স্ত্রী তারিন আক্তারের নারীর ঘর থেকে যুবদল নেতা আটক, মারধরের ভিডিও ভাইরাল এইমাত্রঅন্যান্য নারীর ঘর থেকে যুবদল নেতা আটক, মারধরের ভিডিও ভাইরাল রবিবার চট্টগ্রাম যাবেন প্রধানমন্ত্রী, থাকছে একাধিক কর্মসূচি এইমাত্রঅন্যান্য রবিবার চট্টগ্রাম যাবেন প্রধানমন্ত্রী, থাকছে একাধিক কর্মসূচি স্কুলছাত্রীকে লাথির ভিডিও ভাইরাল, অভিযুক্তের বদলে ভুক্তভোগীকেই টিসি এইমাত্রঅন্যান্য স্কুলছাত্রীকে লাথির ভিডিও ভাইরাল, অভিযুক্তের বদলে ভুক্তভোগীকেই টিসি বুড়িচংয়ে নিখোঁজের ৩ দিন পর ফিশারির পুকুরে রিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার এইমাত্রঅন্যান্য বুড়িচংয়ে নিখোঁজের ৩ দিন পর ফিশারির পুকুরে রিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার ‘যুদ্ধ বেশিদিন চলবে না’, চুক্তি নিয়ে আলোচনা এগোচ্ছে: ট্রাম্প এইমাত্রঅন্যান্য ‘যুদ্ধ বেশিদিন চলবে না’, চুক্তি নিয়ে আলোচনা এগোচ্ছে: ট্রাম্প ​জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা বরিশাল জেলা কমিটির অনুমোদন এইমাত্রঅন্যান্য ​জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা বরিশাল জেলা কমিটির অনুমোদন
অন্যান্য

ইরান সমর্থিত হুথিদের হামলায় ইয়েমেনে ৫৮ সেনা নিহত

প্রতিবেদক:
ইরান সমর্থিত হুথিদের হামলায় ইয়েমেনে ৫৮ সেনা নিহত

ইয়েমেনে ইরানসমর্থিত হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ৫৮ সরকারি সেনা নিহত হয়েছেন। একই সময়ে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরান এলাকায় হুথিদের হামলায় ১১ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। হামলাগুলোকে ইয়েমেনের সাম্প্রতিক কয়েক বছরের সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্য টাইমস অব ইসরায়েল ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার বরাত দিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর বিভিন্ন অবস্থান ও সেনা ক্যাম্প লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় হুথিরা।

হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, সৌদি আরবের সমর্থনে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর প্রতিক্রিয়ায় এসব হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, ইয়েমেনের একটি সামরিক সূত্র জানায়, হামলায় অন্তত ৫৮ সরকারি সেনা নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। এর আগে চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট সূত্র ৩৮ জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল।

ইয়েমেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হামলার উপযুক্ত স্থান ও সময়ে জবাব দেওয়া হবে।

এদিকে হামলার প্রভাব সৌদি আরবের সীমান্ত এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরান প্রদেশে হুথিদের হামলায় সাত সৌদি নাগরিক, একজন ইয়েমেনি, দুই মিসরীয় ও একজন পাকিস্তানি নাগরিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চার বছর বয়সী এক শিশুও রয়েছে, যার শরীরের কিছু অংশে দ্বিতীয় মাত্রার দগ্ধের ঘটনা ঘটেছে।

আল-মালিকি হুথিদের বিরুদ্ধে বেসামরিক এলাকায় নির্বিচারে হামলা চালিয়ে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ করেন। বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সৌদির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা

এদিকে এক জ্যেষ্ঠ সৌদি কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) তত্ত্বাবধানে থাকা হুথি ও ইরাকের কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক স্থাপনায় সমন্বিত হামলা চালাতে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা জানান, সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য হতে পারে জ্বালানি অবকাঠামো, বন্দর ও বিমানবন্দর।

ওই কর্মকর্তা বলেন, সম্ভাব্য হামলার হুমকি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কারণ সৌদি আরব এখনো ইরানের সঙ্গে সংঘাত কমিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। হামলার পরিকল্পনা থাকলে তা চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও জানান, সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ পর্যায়ে রয়েছে এবং যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রিয়াদ প্রস্তুত।

এর আগে মঙ্গলবার নাজরান বিমানবন্দরে হামলার দায়ও হুথিরা স্বীকার করেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি সামরিক স্থাপনা, অবকাঠামো ও জাহাজ চলাচলের ওপরও হামলা চালিয়েছে ইরানঘনিষ্ঠ এই গোষ্ঠী।

অন্যদিকে, গত ২৯ জুলাই সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানসমর্থিত ইরাকি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে হামলা চালায়। সৌদি তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার জন্য ওই গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করে এ অভিযান চালানো হয়েছিল। পাল্টা জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল ইরাকের সংশ্লিষ্ট মিলিশিয়ারা।

এমন পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে সৌদি আরব। এরই অংশ হিসেবে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি সইয়ের আলোচনা চলছিল বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ, হরমুজ ও লোহিত সাগরে নৌ চলাচলে বিঘ্ন এবং ইরানসমর্থিত বিভিন্ন গোষ্ঠীর সামরিক তৎপরতার মধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।