স্কুলছাত্রীকে লাথির ভিডিও ভাইরাল, অভিযুক্তের বদলে ভুক্তভোগীকেই টিসি
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এক স্কুলছাত্রীকে পেছন থেকে লাথি মারার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে অভিযোগ উঠেছে, অভিযুক্তের বদলে ভুক্তভোগী ছাত্রীকেই বিদ্যালয় থেকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) দিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) ফেসবুক ও টিকটকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শীতলক্ষ্যা নদীর তীরের ওয়াকওয়ে দিয়ে স্কুলড্রেস পরা দুই ছাত্রী হেঁটে যাচ্ছিল। এ সময় পেছন থেকে এক কিশোর এসে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে লাথি মারে। ছাত্রীটি প্রতিবাদ করলে তাকে আরও একবার লাথি দেওয়া হয়। ঘটনাটি পাশে থাকা আরেক ব্যক্তি মুঠোফোনে ধারণ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে কাঁচপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়সংলগ্ন ওয়াকওয়েতে এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় কাঁচপুরের ওমর আলী উচ্চবিদ্যালয়ের চতুর্থ ও সপ্তম শ্রেণির দুই ছাত্রী সেখানে অবস্থান করছিল। অভিযুক্ত কিশোর হঠাৎ পেছন থেকে এসে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে পরপর দুইবার লাথি মারে।
ভুক্তভোগী ছাত্রী ওই বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। অভিযুক্ত কিশোরের বয়স প্রায় সাড়ে ১১ বছর। সে কাঁচপুরের রায়েরটেক এলাকায় ভাড়াবাসায় থাকে। তার বাবা রিকশাচালক এবং মা পোশাক কারখানার শ্রমিক।
এদিকে, অভিযুক্ত কিশোরকে স্থানীয় সালিসে কান ধরে ওঠবস করিয়ে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করার আরেকটি ভিডিওও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে তাকে ভবিষ্যতে এমন কাজ আর না করার অঙ্গীকার করতে দেখা যায়।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা জানান, ঘটনাটি প্রায় এক মাস আগের হলেও সম্প্রতি ভিডিওটি ভাইরাল হয়। তিনি অভিযোগ করেন, স্কুল চলাকালে বিদ্যালয়ের বাইরে যাওয়ার অভিযোগে শিক্ষকদের সিদ্ধান্তে তার মেয়েকে টিসি দেওয়া হয়েছে। এখন তাকে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, স্কুল পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুই ছাত্রীকে টিসি দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ঘটনাটি বিদ্যালয়ের বাইরে ঘটেছে এবং স্থানীয়ভাবে বিষয়টির মীমাংসা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ভাইরাল ভিডিওটি পুলিশের নজরে এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে এবং তদন্তে ঘটনার সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
