মূল লেখায় যান
শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬, ১:৫৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ইরান সমর্থিত হুথিদের হামলায় ইয়েমেনে ৫৮ সেনা নিহত এইমাত্রঅন্যান্য ইরান সমর্থিত হুথিদের হামলায় ইয়েমেনে ৫৮ সেনা নিহত মব সাজিয়ে আমার স্বামীর ওপর হামলা, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি- স্ত্রী তারিন আক্তারের এইমাত্রঅন্যান্য মব সাজিয়ে আমার স্বামীর ওপর হামলা, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি- স্ত্রী তারিন আক্তারের নারীর ঘর থেকে যুবদল নেতা আটক, মারধরের ভিডিও ভাইরাল এইমাত্রঅন্যান্য নারীর ঘর থেকে যুবদল নেতা আটক, মারধরের ভিডিও ভাইরাল রবিবার চট্টগ্রাম যাবেন প্রধানমন্ত্রী, থাকছে একাধিক কর্মসূচি এইমাত্রঅন্যান্য রবিবার চট্টগ্রাম যাবেন প্রধানমন্ত্রী, থাকছে একাধিক কর্মসূচি স্কুলছাত্রীকে লাথির ভিডিও ভাইরাল, অভিযুক্তের বদলে ভুক্তভোগীকেই টিসি এইমাত্রঅন্যান্য স্কুলছাত্রীকে লাথির ভিডিও ভাইরাল, অভিযুক্তের বদলে ভুক্তভোগীকেই টিসি বুড়িচংয়ে নিখোঁজের ৩ দিন পর ফিশারির পুকুরে রিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার এইমাত্রঅন্যান্য বুড়িচংয়ে নিখোঁজের ৩ দিন পর ফিশারির পুকুরে রিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার ‘যুদ্ধ বেশিদিন চলবে না’, চুক্তি নিয়ে আলোচনা এগোচ্ছে: ট্রাম্প এইমাত্রঅন্যান্য ‘যুদ্ধ বেশিদিন চলবে না’, চুক্তি নিয়ে আলোচনা এগোচ্ছে: ট্রাম্প ​জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা বরিশাল জেলা কমিটির অনুমোদন এইমাত্রঅন্যান্য ​জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা বরিশাল জেলা কমিটির অনুমোদন
অন্যান্য

‘যুদ্ধ বেশিদিন চলবে না’, চুক্তি নিয়ে আলোচনা এগোচ্ছে: ট্রাম্প

প্রতিবেদক:
‘যুদ্ধ বেশিদিন চলবে না’, চুক্তি নিয়ে আলোচনা এগোচ্ছে: ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরান ও ওমানের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে আলোচনা এগিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনো মতভেদ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ‘খুব শিগগিরই’ শেষ হবে বলে তিনি মনে করছেন। তার ভাষায়, ইরান আর ‘বেশিদিন’ যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবে না। তিনি আরও দাবি করেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং পরিস্থিতি ভালোভাবেই এগোচ্ছে।

তবে ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করার কথা অস্বীকার করেছে। তেহরানের দাবি, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি নয়, বরং ওমানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও জাহাজ চলাচল নিয়ে আলোচনা করছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে জাহাজ চলাচলের রুটের স্থানাঙ্ক নির্ধারণে একমত হয়েছে। প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনাকে বৃহত্তর শান্তি আলোচনার সম্ভাব্য ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্সের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, ইরানের একটি সংসদীয় কমিটি হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং অন্যান্য ‘শত্রু’ দেশের জাহাজ চলাচল নিষিদ্ধ করার একটি প্রাথমিক বিল পর্যালোচনা করছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রণালিটি দিয়ে মাত্র ৩৩টি জাহাজ চলাচল করেছে, যেখানে এর আগের সপ্তাহে এই সংখ্যা ছিল ৫০টি।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন করা হতো। ফলে প্রণালিটি বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক সংকট তৈরি হয়েছে।

এর আগে গত ১৭ জুন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছিল। এতে ইরান অন্তত ৬০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের জাহাজের অবাধ চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে সম্মত হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে জাহাজ কোন রুট ব্যবহার করবে, তা নিয়ে পরবর্তী সময়ে মতবিরোধ দেখা দেয়।

বর্তমানে ইরানের অবস্থান হলো, হরমুজ প্রণালির যেসব অংশ তার আঞ্চলিক জলসীমার মধ্যে রয়েছে, সেখানে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে তেহরানের ভূমিকা থাকতে হবে। ভবিষ্যতে জাহাজ চলাচলের জন্য ফি নেওয়ার সুযোগও ইরান চায়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত নয় এবং তেহরানকে কোনো ধরনের ফি নেওয়ার সুযোগও দেওয়া যাবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দিতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ভূমিকার বিষয়ে কিছুটা ছাড় দিতে হতে পারে। কারণ ইরানের উপকূলীয় জলসীমার ওপর দিয়ে চলাচলকারী গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ থেকে তেহরানকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া বাস্তবসম্মত নাও হতে পারে।

অন্যদিকে ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ট্রাম্পের কৌশলকে ‘থিয়েটার কূটনীতি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে বড় ধরনের হামলার হুমকি দিচ্ছে, আবার পরক্ষণেই আলোচনার কথা বলছে। হুমকি, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগের এই কৌশল ব্যর্থ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে সমঝোতা হলেও সেটিই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের অবসান নিশ্চিত করবে না। প্রণালি নিয়ে সমাধানের পরও দুই দেশের মধ্যে বৃহত্তর রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও পারমাণবিক ইস্যুতে নতুন করে আলোচনা শুরু করতে হবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার মজুত নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের (আরইউএসআই) বিশ্লেষক মাইকেল স্টিফেন্স আল জাজিরাকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্রের মজুতের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ঝুঁকিও বাড়ছে।

ফলে ট্রাম্প যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার কথা বললেও বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের অবসান কতটা দ্রুত সম্ভব হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়টিই আপাতত আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।