মূল লেখায় যান
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪:৫৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
অন্যান্য

ফরিদপুরে কালীবাড়ি মন্দিরের কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪

প্রতিবেদক:
ফরিদপুরে কালীবাড়ি মন্দিরের কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪

ফরিদপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী পুরাতন কালীবাড়ি মন্দিরে চুরির ছয় দিনের মধ্যেই কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি, স্বর্ণ-রৌপ্যের অলংকারসহ বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুরাইচ গ্রামের আসাদুজ্জামান সাদ্দাম (৩৮), তাঁর মা সাজেদা বেগম (৬৫), বোয়ালমারী উপজেলার কান্দাকুল গ্রামের আল আমিন মোল্লা (২৪) এবং বোয়ালমারী বাজারের জুয়েলারি ব্যবসায়ী আতিয়ার রহমান।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে পূজা শেষে মন্দিরে তালা দিয়ে চলে যান সেবায়েত ও মন্দির কমিটির সভাপতি কুশল চক্রবর্তী। পরদিন ২০ সেপ্টেম্বর ভোরে মন্দিরে গিয়ে তিনি দেখতে পান, তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি, প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালংকার, ৩০ ভরি রৌপ্যালংকার এবং কয়েকটি পিতলের প্রতিমা নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

এ ঘটনায় ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করা হয়। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, চুরি যাওয়া কষ্টিপাথরের মূর্তিটির ওজন প্রায় ২০ কেজি এবং আনুমানিক মূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। মামলার পর পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজীর নির্দেশনায় কোতোয়ালি থানা, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপারদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ দল তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একাধিক অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার সাজেদা বেগমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর বাড়ির রান্নাঘরের মাটির নিচে পুঁতে রাখা স্বর্ণ-রৌপ্যের অলংকার এবং ছয়টি পিতলের মূর্তি উদ্ধার করা হয়। পরে সাদ্দাম ও আল আমিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বোয়ালমারীর রুপাপাত এলাকার একটি বাড়ির পেছনে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা কষ্টিপাথরের কালীমূর্তিটি উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া স্থানীয় একটি জুয়েলারি দোকানে অভিযান চালিয়ে মূর্তি থেকে চুরি করা স্বর্ণ গলিয়ে রাখা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তার সাদ্দামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১০টির বেশি এবং আল আমিনের বিরুদ্ধে আটটির বেশি চুরি ও ডাকাতির মামলা রয়েছে।

পুলিশ সুপার বলেন, মামলাটি শুরুতে কোনো দৃশ্যমান সূত্র ছাড়াই তদন্ত করতে হয়েছে। তবে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, গোয়েন্দা তৎপরতা ও পুলিশের সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই চুরি যাওয়া মূল মূর্তিসহ অধিকাংশ মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।