দখলবাজি-চাঁদাবাজি বন্ধে ব্যর্থতা সরকারের জন্য অশনিসংকেত: টিআইবি
দখলবাজি ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা ক্ষমতাসীন দলের জন্য অশনিসংকেত বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একই সঙ্গে এসব কর্মকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সারা দেশে দলীয় আত্মশুদ্ধির অভিযান চালানোর আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে লুটপাট, ভাঙচুর ও জবরদখল, কিশোরগঞ্জে জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ এবং এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে টিআইবি।
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাড্ডা এমসিএইচ-এ লুটপাট, ভাঙচুর ও জবরদখলের ঘটনা সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের জন্য বিব্রতকর দৃষ্টান্ত। তার প্রশ্ন, সংরক্ষিত আসনের একজন সংসদ সদস্যের পৃষ্ঠপোষকতায় পুলিশের উপস্থিতিতে শত শত মানুষের সামনে দীর্ঘদিন ধরে দরিদ্র মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসা একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে ক্ষমতাসীন দল কী ধরনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ উঠছে। বাস টার্মিনাল, ফুটপাত, বাজার, জলমহাল, বালুমহাল, হাটবাজার, ক্যাবল ও ইন্টারনেট সংযোগ এবং বর্জ্য সংগ্রহের ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতে এমন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এসব কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও অন্তর্ঘাত অনেক ক্ষেত্রে সহিংস রূপ নিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এর ফলে দখলবাজি ও চাঁদাবাজি আরও স্বাভাবিকতা লাভ করছে, যা সরকারের জন্য অশনিসংকেত বলে উল্লেখ করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক।
কিশোরগঞ্জে জলমহাল দখল নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনাকেও ২০২৪ সালের আগস্টের পর ঘটে যাওয়া ঘটনাবলির ধারাবাহিকতা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, এসব ঘটনা সরকারের বিভিন্ন ভালো উদ্যোগ ও সদিচ্ছাকে ম্লান করে জনগণের কাছে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকারি দল তাদের দুর্নীতিবিরোধী নির্বাচনি অঙ্গীকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলে এখনই কার্যকর আত্মশুদ্ধিমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতে দখলবাজি ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।
বিবৃতিতে টিআইবি আরও দাবি করে, দলীয় নেতাকর্মীদের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে কখনো বহিষ্কারসহ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও ক্ষমতার অপব্যবহারে জড়িতদের সঙ্গে সরকারি দলের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততার কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না। এতে স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি, অনিয়ম ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে সংস্থাটি।
প্রতিটি ঘটনার যথাযথ তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে টিআইবি।
